জ্যোতিষশাস্ত্র

এবছরের অক্ষয় তৃতীয়া কোন কোন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য শুভ? কী লাভ পাবেন তারা? সোনা-ই বা কিনবেন কোন সময়ে?

আজ অক্ষয় তৃতীয়া। অক্ষয় কথার অর্থ হল যার কোনও ক্ষয় নেই। অর্থাৎ এই সিনে যদি কোনও শুভ কাজ অর্থাৎ জপ, যজ্ঞ, দান, ধ্যান করা হয়, তাহলে সেই উপকারিতা কখনই হ্রাস পাবে না। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এবছর অক্ষয় তৃতীয়া পড়েছে ৩রা মে। শাস্ত্র মতে, এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দেবী লক্ষ্মী তাঁর ভক্তদের প্রতি সদয় হন।

শুধু হিন্দুরাই নন, এই অক্ষয় তৃতীয়া জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তিথি। এই শুভ দিনটিকে ঘিরে অনেক কিংবদন্তি রয়েছে। যেমন- এই শুভদিনেই জন্ম নিয়েছিলেন বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম। আবার বেদব্যাস ও গণেশ এই দিনেই মহাভারত রচনা শুরু করেছিলেন।

আবার বলা হয়, এই দিনেই নাকি সত্যযুগ শেষ হয়েছিল ও সূচনা হয়েছিল ত্রেতাযুগের। এই বিশেষ দিনটিতেই রাজা ভগীরথ মা গঙ্গাকে মর্ত্যে নিয়ে এসেছিলেন। আরও বলা হয়ে থাকে যে এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনই কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাকে অতুল্য ঐশ্বর্য দান করেছিলেন। এই দিনেই কুবেরের লক্ষ্মীলাভ হয়েছিল বলেই এইদিনে বৈভব-লক্ষ্মীর পুজো করা হয়।

কিংবদন্তি অনুযায়ী, পাণ্ডবরা নির্বাসনে থাকাকালীন যেদিন ভগবান কৃষ্ণের কাছে একটি অক্ষয় পাত্র পেয়েছিলেন, সেই দিনটিকে স্মরণে রেখেও পালন করা হয় এই অক্ষয় তৃতীয়া। এই পাত্রের জন্যই পাণ্ডবদের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত হয়।

লোকজন এই দিনটি বিশেষভাবে উদযাপন করে যাতে বছরে তাদের সম্পদ বৃদ্ধি পায়। এই দিনটিতে গণেশ, লক্ষ্মী ও বিষ্ণুকে হলুদ বস্ত্র ও ফুল নিবেদন করে বিশেষ পুজো করা হয়। চাল, দুধ ও ছানার ডাল দিয়ে একটি বিশেষ প্রসাদও বানানো হয় এদিন উপলক্ষ্যে।

পঞ্চাং অনুযায়ী, এদিন সকলে সোনা কেনেন। এ বছর এই বিশেষ মুহূর্তটি হচ্ছে ৩রা মে সকাল ৫টা ১৮ মিনিট থেকে ৪ঠা মে ৫টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এ বছর এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটি কর্কট, ধনু, মকর ও বৃষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য বিশেষ ফলদায়ক।

Related Articles

Back to top button