বিনোদন

কবীর সুমনের পর এবার অনুপম! বাবুলের দলবদল নিয়ে পরোক্ষভাবে তোপ গায়কের, বললেন ‘সামান্য আদর্শ থাকলেও রাজনীতি নয়’

এক শিল্পী সমালোচনায় অন্য এক শিল্পী। পরোক্ষভাবেই এবার সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন গায়ক তথা সুরকার অনুপম রায়। অল্প বাক্যব্যয়ের মাধ্যমেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবুলকে নাম না করেই বিঁধলেন অনুপম।

গত শনিবার দল বদলে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকেই তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। এই ঘটনা গোটা বঙ্গ রাজনীতিকে রীতিমতো নাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই সমালোচনা করেছেন বাবুলের।

বাবুল সুপ্রিয় যেহেতু একজন রাজনীতিবিদ ছাড়াও সাংস্কৃতিক জগতেরও মানুষ, এই কারণে তাঁর এই দলবদল নিয়ে কথা বলতে শোনা গিয়েছে সাংস্কৃতিক মহলের একাংশকেও। অনুপম রায় তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “একটা সময় মনে হতো আদর্শ থাকলে তবেই রাজনীতি। এখন বহুদিন হল মনে হয়, সামান্য আদর্শ থাকলেও আর যাই হোক, রাজনীতি নয়”।

বাবুলের দলবদল নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ কবীর সুমনও। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ তোপ দেগেই তিনি লিখলেন, “আমি রাজনীতির লোক নই। রাজনীতিতে থেকে দেখেছি ওটা আমার জায়গা নয়। তবু, আজ জীবনে প্রথম মনে হচ্ছে একটা দল খুলি”।

ফেসবুক পোস্টে কবীর সুমন তোপ দেগেই বলেন, “শুধু ‘আপনার মমতাময়ী’ বলে গায়ে পড়ে বিদ্রুপ করা এই মুসলিমবিদ্বেষী, এনআরসি পন্থী, বাংলা ও বাঙালি বিদ্বেষী বাবুল সুপ্রিয় মহোদয় এখন ‘তাঁর মমতাময়ী’ সম্পর্কে কী ভাবছেন, তৃণমূলে তাঁর কাছের মানুষরা হয়ত জানতে চাইছেন”। আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়ে তিনি আরও লেখেন, “আমার বয়স হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও দুর্বল নই। এবং আমি একা নই। যা পেয়েছি তা ফেরত দিয়ে তবে মরব”। ফেসবুক পোস্টে কবীর সুমন এও বলেন যে উল্লেখ বাবুল সুপ্রিয় কীভাবে তাঁকে ‘স্রেফ গায়ে পড়ে অপমান’ করেছিলেন।

দলত্যাগের বিষয়ে বাবুল সুপ্রিয় বলেন, “আমি খুব স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই। রাজনীতি ছাড়ব মন থেকে বলেছিলাম। ৭ বছরের যে কঠিন পরিশ্রম, তা ফুলস্টপ এসে গিয়েছিল। জানি না কেন। গান থেকে দূরে সরে গিয়ে কাজ করছিলাম”।

তাঁর কথায়, “যা হয়েছে, তা শেষ ৩-৪ দিনে হয়েছে। দিদি, অভিষেকের থেকে বার্তা পাই। রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঠিক ভুল বলব না। বাংলাকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। যা দায়িত্ব পাব, তা জানাব। বাংলার মানুষের উন্নতির জন্য কাজ করতে চাই”।

বাবুলের মতে, “রাজনীতি ছাড়া কোনও ড্রামা ছিল না। বাংলা, নিরাপত্তা ছেড়ে দিয়েছিলাম। যে সুযোগ পেয়েছি, তা যে যার মতো ব্যাখ্য়া করবেন। আসানসোলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেব। মন থেকে কাজ করেছি। আপনারা হয়তো স্বীকার করবেন। ভুলত্রুটি অনেক হয়। আসানসোল ধরে রাখার কোনও প্রশ্নই আসছে না”।

Related Articles

Back to top button