সব খবর সবার আগে।

গুনগুন না ফিরলে বাড়ি ছেড়ে দেবে পটকা, জ্যাঠাই, বড়মা! মহা বিপাকে পড়েছে সৌজন্য, কী হবে এবার?

বর্তমানে স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিকের তালিকা থেকে নিচে নেমে যাচ্ছে ‘খড়কুটো’। দর্শকরা মূলত সুখ-দুঃখ মেশানো যৌথ পরিবারের গল্প দেখতে ইচ্ছুক। সন্ধ্যেবেলায় কারোরই চায়ের কাপ হাতে পারিবারিক ঝামেলা দেখতে পছন্দ হয় না। ইদানিংকালে সুখ, দুঃখ, হাসি, মজায় ঘেরা মুখার্জি পরিবার হয়ে উঠেছে দুঃখের আঁতুড়ঘরে। যা দেখতে একদমই পছন্দ করছেন না দর্শকরা। বিশেষত গুনগুনের চরিত্রকে খারাপভাবে দেখানোতে উত্তেজিত হয়ে উঠেছেন দর্শকবৃন্দ। এরপরই গুনগুনের বাড়ি থেকে চলে যাওয়াতে আরও ক্ষুব্ধ হয়েছেন দর্শকরা। এমনকি মুখার্জি পরিবারেও দুঃখের শেষ নেই। সকলেই এখন গুনগুনকে ফিরিয়ে আনতে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

একমুহূর্ত গুনগুনকে ছাড়া মুখার্জিবাড়ির দিন কাটে না। মন খারাপ করে বসে আছেন সকলেই। বাড়ির বউ বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়াতে ক্রমাগত নিজেকে দোষী ভেবে চলেছে মিষ্টি। এদিকে বাড়ির মা লক্ষী বাড়ি না ফিরলে জ্যাঠাই আর বড়মা বৃদ্ধাশ্রম চলে যাবে বলে জানিয়ে দিয়েছে বাবিনকে। পটকাও পরিবারের সকলকে জানিয়ে দিয়েছে, গুনগুনকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তাঁর আর কোন মত নেই। কারণ কেউই তাঁর কথা আগে শোনেন নি। বাড়ির বড়রা এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে বাবিনকে। আপাতত গুনগুনের মান ভাঙানোয় মন দিয়েছে সকলে।

এরইসঙ্গে আচমকা ইউনিভার্সিটিতে মুখোমুখি হয় বাবিন আর গুনগুন। প্রথমবার ইউনিভার্সিটি গিয়েই নিজের স্বামীর সঙ্গে ধাক্কা খায় গুনগুন। দেখা হতেই সৌজন্য গুনগুনকে বাড়ি ফেরার অনুরোধ করে। বলে সমস্ত ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নিতে। কিন্তু গুনগুন নিজের কথাতেই স্থির রয়েছে। বাড়ির সকলে জানায়, সে বাড়ি না ফিরলে ভেঙে যাবে মুখার্জি পরিবার। তাই তাঁকে ফিরতেই হবে। কিন্তু কোন কথাই শুনতে নারাজ গুনগুন।

মূলত খড়কুটো ধারাবাহিকে মুখার্জি বাড়িতে আসা ছোট সদস্যকে নিয়ে শুরু হয়েছিল ঝামেলা। তাকে নিয়েই সমস্যা শুরু হয়েছিল বাড়ির দু’বউয়ের মধ্যে। বাড়ির ছোটো সদস্যকে নিয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছিল মুখার্জি বাড়ির মা লক্ষ্মী। কিন্তু তাঁর কাণ্ডকারখানা দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল সকলে। ঋজু-মিষ্টির প্রথম সন্তানকে নিয়ে গুনগুনের কার্যত বাড়াবাড়ি চিন্তায় ফেলেছিল বাড়ির লোকজনদের। কোনও কথাই সে মানছিল না। ছোট্ট শিশুকে নিয়ে এতটাই পজেসিভ হয়ে পড়েছিল যে, তাকে নিজের মার কোলে তুলে দিতে চাইছিল না। যার পর বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে মিষ্টি আর গুনগুন। এর ফলে গুনগুনের হাত থেকে মাটিতে পড়ে যায় ছোট্ট পুচুসোনা। হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় তাকে। কিন্তু এখন সে অনুশোচনায় ভুগছে। নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে ঠিকই। কিন্তু তাতেও তাঁর মনে হচ্ছে কোথাও গিয়ে ভুল রয়েছে মুখার্জি পরিবারের লোকেদেরও।

তাই এখন কোনও কথাই শুনতে চাইছে না সে। এখন মনে করছে তাঁরই বাড়ি ফেরা উচিত নয়। এটাই হবে মুখার্জি পরিবারের জন্য যোগ্য শাস্তি। এদিকে অনেকে মনে করছেন, গুনগুনের ফিরে যাওয়া উচিত ছিল বাড়িতে। যেখানে জ্যাঠাই ও বড়মা নিজে এসেছিল তাঁকে বাড়ি নিয়ে যেতে। বড়দের সে যথেষ্ট অপমান করেছে। এই ধরনের বাচ্চাদের মত না করে, ‘ভালো বউ’ হওয়া উচিত তাঁর। অন্যদিকে অনেকে মন্তব্য করেছেন, গুনগুনের যখন এতই বাচ্চার শখ, তাহলে সৌজন্য ও তাঁর নিজের সন্তান নেওয়া উচিত।

এইরকমই হাজারো মন্তব্যের ভিড়ে ‘খড়কুটো’ ধারাবাহিকের নতুন টুইস্ট একদমই মনে ধরছে না দর্শকদের। প্রথমে গুনগুনের বাচ্চাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি আর তারপর এখন ধারাবাহিকে দেখানো হচ্ছে যে বাড়ির সকলেরই দোষ ছিল। এই সবমিলিয়ে নেটিজেনরা বেজায় রেগে গিয়েছেন ধারাবাহিকের নির্মাতার উপর। এরইসঙ্গে সামনে এসেছে ধারাবাহিকে নতুন প্রোমো, “বউ ডাকাতি”। সকলেই সেই পর্বের অপেক্ষায় রয়েছেন।

You might also like
Comments
Loading...