সব খবর সবার আগে।

“বাংলা নন-ফিল্ম মিউজিককে সরানোর চক্রান্ত চলছে”, মুখ খুললেন ‘ক্যাকটাসের সিধু’ এবং ‘শিলাজিৎ’

বাংলায় ব্যবসা করবে অথচ বাংলা গান বাজাবে না বাংলার রেডিও স্টেশনগুলো। তাদের শ্রোতার ভাষা বাংলা অথচ তারা বাজাবে হিন্দি গান। বাংলার বুকে হিন্দি গান এবং হিন্দি ভাষার দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর যে কটা বাংলা গান এফএম-এ বাজানো হয় সেগুলি সবই বাংলা সিনেমার গান। আমাদের বাংলা সংস্কৃতির একটা বড়ো অংশ হল নন-ফিল্ম মিউজিক যেগুলো কিন্তু মানুষ এখন প্রায় ভুলতে বসেছেন কারণ তার কোনো প্রচার হয় না। বাংলা পক্ষ, এফএম-এ বাংলা গান বাজানোর দাবিতে তাদের প্রতিবাদ জারি রেখেছে। যাতে সামিল হয়েছেন অনেক নামজাদা সঙ্গীতশিল্পীরা। এবার এই আন্দোলনে সরব হলেন, “হলুদ পাখির” স্রষ্টা ক্যাকটাসের সিধু এবং শিলাজিৎ।

বাংলা পক্ষের আহ্বানে এগিয়ে এসে গায়ক সিধু জানান, “এ এক নির্মম সত্য, যে বাংলা এফএম চ্যানেলগুলো কোনোভাবে বাংলাগানকে প্রমোট করে না। যতটুকু করে সেগুলো বাংলা ফিল্ম মিউজিক। কিন্তু সিনেমার গান ছাড়াও বাংলা নন-ফিল্ম মিউজিক বা বাংলা আধুনিক গান চিরকালই বাংলা সংস্কৃতির এক অঙ্গ ছিল। এটা আজকের কথা নয়, অনেকদিন আগে থেকেই বাংলা আধুনিক গান শোনার জন্য অনেক শ্রোতা ছিলেন। কিন্তু এখন এই ধরনের গানের প্রচার হিসেব কষে কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা মোটেও সুখকর নয়। আমি একবারও বলছি না কাউকে বাদ নিয়ে আমাদের গানকে জায়গা করে দেওয়া হোক। কিন্তু আমি চাই সব গানকেই যেন সমান মর্যাদা দেওয়া হয়।”

তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, “নন-ফিল্ম ক্যাটাগরির একটা বড়ো অংশ হল বাংলা ব্যান্ড, যাকে এখন চেপে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এফএম চ্যানেলগুলিকে নালিশ করলে বলা হয় যে, তাদের হেড অফিস দিল্লিতে কিংবা বম্বেতে, তাই সেখান থেকে যা নির্দেশ আসে তারা সেই মতোই চলে। কলকাতায় কি গান চলবে বা চলবে না তার নির্দেশ অন্য শহর থেকে কিভাবে আসে? এ নিয়ে খুবই ক্ষুব্ধ আমি। কিন্তু রেগে আছি বলে যে চিৎকার করে ভাষণ দিতে হবে তার কোনো মানে নেই। কিন্তু এটা বলতেই হয় নন-ফিল্ম মিউজিককে সরিয়ে দেওয়ার একটা চক্রান্ত চলছে। আমি তার তীব্র প্রতিবাদ করছি। আমি হয়তো জানি যে কে বা কারা এই কাজ করছে কিন্তু তা প্রকাশ করার জন্য এই ভিডিও নয়।” তাদেরকে সাবধান হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ” আপনারা সাবধান থাকুন কারণ আমরা যারা নন-ফিল্ম ক্যাটাগরিতে কাজ করছি তারা এবার সংঘবদ্ধ হয়ে পড়ছি এবং আমাদের সাথে ডিজিটাল প্লাটফর্ম রয়েছে। কোনো এফএম চ্যানেল বাংলা গান বাজালো কি বাজালো না তা আর গুরুত্ব রাখে না বোধহয়। আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমাদের গান পৌঁছে দিচ্ছি, পৌঁছে দেবোই, হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ বা ইন্টারনেটের ভাষায় মিলিয়ন্স অফ অডিয়েন্সের কাছে।”

অন্যদিকে নন-ফিল্ম বাংলা গানের অস্তিত্বকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে নিজের ফেসবুক ওয়াল থেকে সরব হয়েছেন গায়ক শিলাজিৎও। তিনি লিখছেন, “একদিকে গানের ‌কোম্পানি‌গুলি আমাদের প্রাপ্য আমাদের দিতে চায় না। অন্যদিকে টেলিভিশনে কাজ করলে সেখানেও কম পয়সাতে কাজ করার কথা বলা হয়। তারপর আবার সেখানে পেমেন্ট ‌কবে মিলবে তারও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ থাকে না। অন্যদিকে রেডিও স্টেশনগুলো তো‌ বাংলা গান বাজায়ই না। এছাড়া কোনো প্রোগ্রাম করতে গেলে অর্গানাইজার বলবে পয়সা নেই। কিন্তু আমাদের নাকি লাখ‌ লাখ‌ ভক্ত! তার মধ্যে অর্থ দিয়ে নাকি শ্রোতারা সেরকম গান শুনতে চান না। হাতে গোনা কয়েকজনই রয়েছেন যারা পয়সা দিয়ে আমাদের গান শোনেন। তার ওপর আবার ‌খাঁড়ার ঘা? আমার গান‌ অনলাইন লাইভ এ‌ গাইতে‌ নাকি পয়সা দিতে হবে? আমার গান সেগুলো, আমার বাবার হলে তাও মানতাম। অনলাইনে যে ক’জন পয়সা দিয়ে গান শুনতে আসবেন এবার তাদের জন্য গেয়েই যা পাব তাতেই পেট চালাব। দেখি আমাকে কতজন আটকায়? আরও কিছু সুশান্ত সিং এর মত খবর তৈরি করতে যারা প্ররোচনা‌ দিতে চাইছেন, তারা এখনই সাবধান হয়ে যান! শিল্পীদের পেটে‌ লাথি মারার পরিকল্পনা ত্যাগ করুন কারণ সব‌ শিল্পীরা দূর্বল নয়। সবাই একসাথে এলে কিন্তু আগুন জ্বলে যাবে।

এফএম এ হিন্দি গান বাজানো নিয়ে যতই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকুক না কেন রেডিও স্টেশনের শীর্ষ কর্তারা, এর বিরুদ্ধে বাংলা পক্ষ তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে। আর তাদের দাবি যে কতটা ন্যায্য তা প্রমান করতে এগিয়ে এসেছেন বাংলার সব নামী শিল্পীরা। কারণ আজ শিল্পীরা বাঁচলে তবেই আগামী দিনে শিল্প বেঁচে থাকবে।

_taboola.push({mode:'thumbnails-a', container:'taboola-below-article', placement:'below-article', target_type: 'mix'}); window._taboola = window._taboola || []; _taboola.push({mode:'thumbnails-rr', container:'taboola-below-article-second', placement:'below-article-2nd', target_type: 'mix'});
You might also like
Comments
Loading...