সব খবর সবার আগে।

বিএমসিকে পাল্টা চাপ, ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাইলেন কঙ্গনা, বম্বে হাইকোর্টে জমা করলেন পিটিশন

এক সপ্তাহ আগে কঙ্গনা রানাওয়াতের (Kangana Ranaut) পালি হিলসের প্রযোজনার অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে (Demolition) দেয় বিএমসি। তাদের বক্তব্য ছিল কঙ্গনার অফিসে বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। সেই নিয়ে বিস্তর জল ঘোলা হয়। এবার পাল্টা দাবি হিসেবে বিএমসি’র (BMC) কাছ থেকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ (Compensation) চাইলেন অভিনেত্রী। তিনি এই অফিস ভেঙে দেওয়ার জন্য ২ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাই বিএমসিকে এই টাকা ভরতে হবে এমনটাই দাবি করে বম্বে হাইকোর্টে সোমবার পিটিশন দায়ের করলেন অভিনেত্রী।

বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে শিবসেনা (Shivsena) সরকারের সঙ্গে কঙ্গনা রানাওয়াত এর তুমুল বিরোধ বেঁধেছে। মুম্বইকে পাক অধিকৃত কাশ্মীর বলে শিবসেনার তীব্র রোষের মুখে পড়েছিলেন কঙ্গনা। অনেকেই মনে করছেন, কঙ্গনার অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আছে।

কঙ্গনার দাবি তাঁর অফিস বাড়িতে কোনও অবৈধ নির্মাণ ছিল না। এর আগেই বিএমসির বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে অভিযোগ জানিয়েছিলেন কঙ্গনা। সোমবার আদালতে নতুন করে সংশোধনী পিটিশন দাখিল করেন তার আইনজীবী রিজওয়ান সিদ্দিকি। সেখানেই পুরসভার কাছ থেকে এই বিরাট অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন কঙ্গনা কারণ তার বক্তব্য তার অফিসে ৪০ শতাংশই ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিএমসি।

এর আগে হাইকোট প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বলেও ছিল যে, যেভাবে কঙ্গনার অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে কোন খারাপ উদ্দেশ্য দ্বারা চালিত হয়ে এই কাজ করা হয়েছে। কারণ মুম্বইতে অবৈধ নির্মাণের সংখ্যা কম নয়। তাই বিএমসি যদি এরকম ভাবেই তৎপরতার সঙ্গে গোটা মুম্বইতে বাড়ি ভাঙা শুরু করে তাহলে শহরের চেহারাটাই বদলে যাবে। মন্তব্য করেছিল হাইকোর্ট।

বিএমসি’র কাছে কিন্তু সূত্রানুযায়ী এখনো পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ জমে আছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কঙ্গনার অফিস ভেঙে দেওয়ার তৎপরতা অন্য কিছুই মনে করাচ্ছে।
কঙ্গনা নিজের পিটিশনে লিখেছেন যে রাজ্যের ক্ষমতাসীন এক নেতার বিরুদ্ধে মুখ খোলার জন্য বিএমসি থেকে এই হীন কাজ করা হয়েছে। সেই দলের অধীনেই আপাতত রয়েছে বিএমসি। গোটা ঘটনাটি একটি চক্রান্ত ছাড়া কিছু না।

বিএমসি থেকে যে নোটিশ কঙ্গনাকে শুরুতে দেওয়া হয়েছিল তা স্টপ ওয়ার্কের নোটিশ ছিল। অন্যদিকে কঙ্গনার এই অফিস বাড়ির নির্মাণ আজ থেকে দেড় বছর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।বিএমসির তরফে সিলমোহর দেওয়া প্ল্যানে সাতটি পরিবর্তন এনেছেন কঙ্গনা, এমনই দাবি পুরসভার আধিকারিকদের। সেটিও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন কঙ্গনা।

এমনকি গত বুধবার যেদিন কঙ্গনার অফিস ভাঙ্গা হয় সেদিন সাড়ে বারোটার সময় জরুরি শুনানি ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই তড়িঘড়ি বিএমসির আধিকারিকরা পৌঁছে কঙ্গনার অফিস বাড়ি ভেঙে দেয়। বিচারপতি এস জে কাথাওয়ালা এবং বিচারপতি আর আই চাগলা বিএমসির তরফে দাখিল করা হলফনামার জবাব সোমবারের মধ্যে দায়ের করতে বলেছিলেন রিজওয়ান সিদ্দিকিকে। তিনি তাই করেছেন। আপাতত আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

You might also like
Leave a Comment