বিনোদন

‘পুষ্পা’ সিনেমা জুড়ে দেখানো হয়েছে রক্তচন্দন কাঠের পাচার,কী এই রক্তচন্দন?কেন আলোচনায় উঠে এল বহুমূল্য এই গাছ?

গত বছর ডিসেম্বরে মুক্তি পায় দক্ষিণ ভারতীয় ছবি পুষ্পা দ্য রাইজ।তারপর থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি আল্লু অর্জুন এবং রশ্মিকা মান্দানা অভিনীত এই ছবিটি কে। কয়েকদিনের মধ্যেই 100 কোটির ক্লাবে পৌঁছে যায় এই সিনেমা আর এখনও হই হই করে সিনেমা হল এবং ওটিটি প্লাটফর্মে চলছে পুষ্পা।
রক্ত চন্দন কাঠের পাচার নিয়ে এই সিনেমা। কেন্দ্রীয় চরিত্র পুষ্পা কিভাবে রক্ত চন্দন কাঠ পাচার করে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলে সেই নিয়েই গল্প এই সিনেমার। আসুন জেনে নেওয়া যাক যে রক্ত চন্দন কাঠের পাচার নিয়ে এতো হৈ হৈ সেই কাঠ নিয়ে।
এই সিনেমাটি অনেকটাই সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি। ভারতে রক্তচন্দন কে লাল সোনা বলা হয়। এতটাই মূল্যবান এই গাছ। এই গাছ ভীষণ বিরল প্রজাতির। সিনেমাতে যে শেষাচলম জঙ্গলের কথা বলা হয়েছে রক্তচন্দন ওই জঙ্গলেই পাওয়া যায়। অন্ধপ্রদেশের চারটি জেলা নেল্লোর, কুর্নুল, চিতোর, কাডাপ্পা এই চারটি জেলাতে রক্ত চন্দন কাঠের গাছ পাওয়া যায়। পূর্বঘাট পর্বতের আবহাওয়ায় এই গাছ খুব ভালো হয় আর এক একটি গাছের উচ্চতা হয় প্রায় 8 থেকে 12 মিটার।
রক্তচন্দন এর কোন গন্ধ নেই কিন্তু এর মূল্য আকাশ ছোঁয়া। এই কাঠে রয়েছে বিশেষ গুণাবলী।আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সঙ্ঘ (আইইউসিএন) ২০১৮-য় এই গাছকে ‘প্রায় বিলুপ্ত’ শ্রেণির তালিকাভুক্ত করেছে। একসময় এতই গাছ কাটা হয়েছে যে আর মাত্র 5% রক্ত চন্দন গাছ পড়ে রয়েছে ভারতে।
আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসাবে এর ব্যবহার বহুল প্রচলিত। ডায়রিয়া থেকে হজমের সমস্যা ইত্যাদি বহু রোগে রক্ত চন্দন কাঠের ব্যবহার করা হয়। রক্ত চন্দন কাঠ রক্ত শুদ্ধ করতে পারে। পুজোর সামগ্রী থেকে প্রসাধনী দ্রব্য তৈরিতে রক্তচন্দন লাগে। এছাড়াও ম’দ তৈরিতে রক্তচন্দন ব্যবহার হয়।
জানা গেছে যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিকেজি রক্তচন্দন কাঠের দাম 3000 টাকা করে শুরু হয়। ভারতের এই গাছ কাটা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ কিন্তু তারপরেও রক্ত চন্দন কাঠ পাচার হয়।পাচার রোখার জন্য ‘রেড স্যান্ডলার্স অ্যান্টি-স্মাগলিং টাস্ক ফোর্স’ও গঠন করা হয়েছে। ২০২১ সালে ৫০৮ কোটি টাকার রক্তচন্দন বাজেয়াপ্ত করেছে এই স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। গ্রেফতার হয়েছে ৩৪২ জন পাচারকারী।

Related Articles

Back to top button