সব খবর সবার আগে।

গায়ের রঙ কালো বলে ছোট থেকে শুনেছেন খোঁটা, সেই মেয়েই খলনায়িকা চরিত্রে দাপিয়ে বেড়িয়েছে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি! জানুন অনামিকা সাহার জীবন কাহিনী

বাংলা ছবির জগত বেশ কিছু বছর হল সাবালক হয়েছে। কর্মাশিয়াল সিনেমার সঙ্গে সঙ্গে আর্ট ফিল্মও কিন্তু জমিয়ে ব্যবসা করছে। একটা সময় ছিল যখন বাংলা ছবির জগতে দাপিয়ে বেড়িয়েছে কমার্শিয়াল সিনেমা। স্বামী কেন আসামী থেকে মায়ের আঁচল, সিনেমা গুলি দেখার জন্য দুপুর বেলায় হলের সামনে লম্বা লাইন পড়ত মা কাকিমাদের। তাদের আলোচনায় উঠে আসতো একজনের নাম, তাঁর এক একটা ডায়লগ গায়ে কাঁপুনি ধরিয়ে দিত। তাঁর নাম অনামিকা সাহা। বাংলা ছবির জগতে তাকে নব্বইয়ের দশক থেকে তার পরবর্তী বেশ কিছু বছরের সেরা খলনায়িকা বলা হয়ে থাকে।

তাঁর আসল নাম ঊষা। ২৬শে নভেম্বর জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশের যশোরে। বাবা রামকৃষ্ণ সাহা ও মা নলিনী সাহা। পড়তেন স্কটিশ চার্চ কলেজে। ওই কলেজের ইংরাজির অধ্যাপিকা বিখ্যাত অভিনেত্রী কেয়া চক্রবর্তীর পরিচালনায় কলেজে শ্যামা নৃত্যনাট্যে অভিনয় করেন তিনি। সেখানেই তাঁর দুর্ধর্ষ নাচ ও অভিনয় দেখে তাঁকে অভিনয়ের জন্য সিলেক্ট করে নেন এক সহকারী পরিচালক।

কিন্তু এত গুণ থাকলে কী হবে, তাঁর গায়ের রঙ ছিল শ্যামবর্ণ।তার জন্য তাকে ছোটবেলা থেকেই আত্মীয়-পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশীর খোঁটা শুনে আসতে হয়েছে। তাঁর কোনদিনও বিয়ে হবে না, তিনি সারাজীবন বাবা-মায়ের বোঝা হয়ে থেকে যাবেন, এরকমটাই ছোটবেলা থেকে শুনে শুনে বড় হয়েছিলেন ঊষা। তারপরে যখন বড় পর্দায় সুযোগ পেলেন তখন যারা তাকে কালো বলে খোঁটা দিয়েছিল তাদের মুখে একদম ঝামা ঘষে দিয়েছিলেন তিনি।

আশার আলো ছবিতে তিনি প্রথম ব্রেক পান। ওই ছবির সহকারী পরিচালক বলে দেন যে এই অচেনা জায়গায় নিজের আইডেন্টিটি অচেনা কারোর কাছে কোনদিনও প্রকাশ না করতে।ফলে তাঁকে স্টুডিও পাড়ায় এক ভদ্রলোক একদিন নাম জিজ্ঞেস করায় তিনি কোনোভাবেই নাম বলছিলেন না। বিরক্ত হয়ে সেই ভদ্রলোক বলে বসেন, ‘তুমি কি অনামিকা?’ তখন তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ আমি অনামিকা।’ সেই থেকে ঊষা সাহা হয়ে গেলেন অনামিকা সাহা।

অভিনয় জীবনের শুরুতেই বাঘ বন্দি খেলা, দুই পুরুষের মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন অনামিকা। সুখেন দাসের প্রতিশোধ ছবিতে বিষে বিষে বিষক্ষয় গানে সৌমিত্রের সঙ্গে নেচে প্রশংসিত হন তিনি। এরপর একের পর এক বিতর্কিত সাহসী চরিত্রে অভিনয় করে নাম কুড়োন অনামিকা সাহা।

এরপর বিয়ে হয়ে গেলে শ্বশুর মশাই তাকে সাহসী চরিত্রে অভিনয় করতে বারণ করেন। অভিনেতা বোধিসত্ত্ব মজুমদারকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে শ্বশুরমশাইয়ের অনুমতি নিয়ে আকাশবাণীতে রেডিও নাটক করে তিনি প্রবল খ্যাতি অর্জন করেন। তার কন্ঠস্বর ছিল ভারী সুন্দর।

এছাড়াও তিনি আরেকটি কাজ করতেন। বোম্বে থেকে যত নায়িকা টলিউডের বাংলা সিনেমা করতো তাদের গলার বাংলা ডাবিং করতেন অনামিকা সাহা। জুহি চাওলা, নীলম সকলের গলার ডাবিং কিন্তু অনামিকা সাহাই করেছেন।

চলতি বছরে করোনায় আক্রান্ত হন তিনি, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। তবে বর্তমানে তিনি সুস্থই আছেন। বাংলা ছবিতে আর তাঁকে দেখা যায় না ঠিকই কিন্তু শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ, নাচ নাগিনী নাচ রে, সেজ বৌ সিনেমাতে তার খলনায়িকা চরিত্রগুলো অমর হয়ে থাকবে।

You might also like
Comments
Loading...