বিনোদন

এম এ পাশ যুবক, সংসারের হাল ফেরালেন চপের দোকান দিয়ে!

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শিল্প চপ শিল্প নিয়ে প্রায়ই বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজ্যের শাসক দলের নেতাদের। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা মান্যতা রেখেই চপ ভেজে সংসারের হল ফেরালেন জঙ্গলমহলের যুবক বিশ্বজিৎ কর মোদকের।
ঠেলা গাড়ি দোকানের নাম চপ শিল্প। প্রায় ২০০০ টাকা রোজগার প্রতিদিন হয়।জঙ্গলমহলের যুবক বিশ্বজিৎ কর মোদক বান্দোয়ান গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই তিনি ভিলেজ রিসোর্স পার্সেন পদে পতঙ্গ বাহিত রোগ দমন করার জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ান। তার সাথে চপ শিল্প মাধ্যমে অতিরিক্ত রোজগার।
বান্দোয়ান ফরেস্ট অফিস মোড়ে গেলেই তার ঠেলা গাড়ি দেখা যায়। দুপুর সময় ছাড়া সকাল বিকাল চপ ভাজা হয়। রীতিমত ভিড় জমে যায় দোকানে। যদিও একেবারেই সহজ ছিল না এই যাত্রাপথ।
যথেষ্ট প্রতিকূলতার মধ্যে এগিয়ে যেতে হয় বিশ্বজিৎ কে।স্নাতকোত্তর, টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিশ্বজিৎ।এরপর ২০১৬ সাল থেকে ভিলেজ রিসোর্স পার্সেনের সাথে যুক্ত তিনি। তখন বছরে ১৩ দিনের এই কাজ করলে ৪৮০ টাকা পেতেন। ২০১৭ থেকে ২০১৮ র প্রায় শেষ পর্যন্ত এই কাজ বন্ধ ছিল।এই সময়ে বেশ সমস্যার মুখে পড়েন। তারপর চলতি বছরের শেষের দিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে হওয়া এই ভিলেজ রিসোর্স পার্সেনদের পতঙ্গ বাহিত রোগ দমনের কাজে যোগ দেন। প্রতিদিনের বেতন সেই সময় ছিল দেড়শো টাকা। ২০২০ সাল নাগাদ বেতন আরও ২৫ টাকা বেড়ে যায়। এখন প্রতিদিন ১৭৫ টাকার গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা ভাতা পান বিশ্বজিৎ।
শেষ কিছু মাস বকেয়া ভাতা বন্ধ হওয়ায় বাড়িতে সমস্যায় পড়েন তিনি। বাড়ি থেকে তাজ্য পুত্র করা হয় তাকে। তার কথায় সরকারি প্রকল্পে লেখা থাকে দিদির অনুপ্রেরণায়। আমি বাস্তব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়ে বলছি দিদির অনুপ্রেরণাতেই তেলেভাজার দোকান করে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে আয় করছি। চপ ভাজাটাও একটা শিল্প। এই ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে আর সংসারে অভাব নেই। সংসারে এখন স্বচ্ছলতা এসেছে। তাই বিরোধীরা যতই কুৎসা করুন। দিদি যে সাধারণ কথা বলেছেন তা যে কতখানি বাস্তব তা নিজেকে দিয়ে প্রমাণ পেয়েছি।”
কি কি পাবেন এই দোকানে? সকালে মুড়ি, ঘুগনি, ডিম সেদ্ধ, ডিমের ওমলেট। বিকালে মাংসের ঘুগনি, আলুর চপ, ব্রেড চপ, ডিমের চপ, মাংসের চপ সেই সঙ্গে আবার ফুচকা।

Related Articles

Back to top button