সব খবর সবার আগে।

বন্ধ হোক শ্রমজীবী ক্যান্টিন, বামেদের হারে দাবী শ্রীলেখার, তবে কী শুধুই ভোট রাজনীতির জন্য মানবসেবার নামে প্রহসন?

চলছে ভোট গণনা। এখনও গণনা শেষ না হলেও তৃতীয়বারের জন্য যে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়বেন তা একেবারে স্পষ্ট। এখনও পর্যন্ত তৃনমূল এগিয়ে রয়েছে ২০৯টি আসনে। অন্যদিকে, গেরুয়া শিবিরের দখলে রয়েছে ৮০টি আসন সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সংযুক্ত মোর্চা জিতেছে মাত্র ২টি আসনে।

এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস ও ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের সঙ্গে জোট বেঁধে সংযুক্ত মোর্চা গঠন করে বামেরা। কিন্তু তাও শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হল না। সুজন চক্রবর্তী থেকে শুরু করে কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সকলেই দেখেছে হারের মুখ।

আরও পড়ুন- রাজ্যে ক্রমশ বিলুপ্তের পথে বাম রথী-মহারথীরা, সেলিম থেকে শুরু সুজন, কান্তিদের মহাপতন

তবে এই হার একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তিনি যে বরাবরই বামপন্থী, তা সকলেরই জানা। ভোটে না দাঁড়ালেও নানান প্রার্থীদের হয়ে একাধিকবার প্রচার করেছেন তিনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও তরী পার হল না। এবার সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের সমস্ত রাগ, ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তিনি।

ফেসবুকে নিজের অফিশিয়াল পেজ থেকে একটি পোস্ট করেন শ্রীলেখা। এতে তিনি দাবী করেন যে বামেদের চালু করা শ্রমজীবী ক্যান্টিন যাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর যদি তা চালু থাকেও, তাহলেও তা যেন শুধুমাত্র বাম কর্মী-সমর্থকদের জন্যই চালু থাকে।

তিনি সুজন চক্রবর্তীকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে তিনি যেন যাদবপুরে শ্রমজীবী ক্যান্টিন বন্ধ করেন এবং ডঃ ফুয়াদ হালিমকেও বলেন তিনি যেন তাঁর সমস্ত পরিষেবা বন্ধ করে দেন। বলে রাখি, এবারের নির্বাচনে সুজন চক্রবর্তী যাদবপুর কেন্দ্র থেকে ও ডঃ ফুয়াদ হালিম বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে হেরেছেন।

কিছু মন্তব্য:- (To all my comrades: amra amader kaaj kore jabo, haarate koshto hoi theek, ei shongram amader…

Posted by Sreelekha Mitra on Sunday, 2 May 2021

 

শ্রীলেখা এও অভিযোগ করেন যে মানুষ অসুবিধার সময় শুধু তাদের (বামেদের) কাছে সাহায্য চাইতে আসে। ভোটের সময় সব যায় অন্য খাতে। এই রাজ্যের জনগণ ’২০ টাকার পাউচ, আর শিল্পতেই খুশি’, এমনটাই দাবী অভিনেত্রীর। তাই বামেদের সব পরিষেবা বন্ধ করা দরকার।

আরও পড়ুন- চূড়ান্ত ফলাফল এখনও বাকী, ইতিমধ্যেই মমতাকে প্রথম অভিনন্দন বার্তা জানালেন অখিলেশ যাদব

এবার এখন প্রশ্ন উঠে যে, এর মানে কী শুধুই ভোট রাজনীতির জন্যই বামেরা মানুষের সেবা করার নামে এতদিন প্রহসন করে এসেছে? মানুষের সাহায্য করা, নিঃস্বার্থভাবে তাদের পাশে থাকার যে দাবী তারা জানায়, তা কী শুধুই ভোট পাওয়ার লোভে? যদি তা না-ই হয়ে থাকবে, তাহলে ভোটে হেরে গিয়ে সমস্ত পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার কথা উঠবেই বা কেন? এর অর্থ, বামপন্থীরা যে সবসময় মানুষকে পরিষেবা দেবে বলে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে, মানুষের উপকারে আসবে বলে দাবী করে, তা শুধুই ভোটের দায়ে। এদেরই দাবী থাকে যে অন্য দলের লোকজন শুধু মুখেই মানুষের জন্য কাজ করবে বলে দাবী করেন, কিন্তু আখেরে কিছুই করেন না। তাহলে, এখন সেই ‘অন্য’ দলের আর বামেদের মধ্যে তফাতটা কী থাকল? অন্তত শ্রীলেখা মিত্রের পোস্ট দেখে তো এই প্রশ্নগুলোই মাথাচাড়া দেয়।

You might also like
Comments
Loading...