বিনোদন

সুশান্ত কান্ডে শীর্ষ আদালতের রায়ে খুশির বন্যা বিহারে, আদেশনামা পেলে বক্তব্য রাখবে মুম্বই পুলিশ

সুশান্ত সিং রাজপুত অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলায় কেন্দ্রের তরফ থেকে বিহার সরকারের সিবিআই এর সুপারিশ কে মান্যতা দেওয়া নিয়ে চলছিল অনেক জল ঘোলা। আজ সমস্ত বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে ঘোষণা করা হলো যে এই মামলার তদন্ত করবে সিবিআই। সুশান্তের মৃত্যুর দু’মাস পর সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে সিবিআইয়ের হাতে চূড়ান্ত তদন্তভার তুলে দেওয়া হল।

এছাড়াও সুপ্রিম কোর্ট থেকে বলা হয়েছে যে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সুশান্ত সংক্রান্ত কোনো রকম মামলা দায়ের হলে তার তদন্ত করবে সিবিআই। স্বাভাবিকভাবেই এই নির্দেশে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে সুশান্ত সিং রাজপুত এর পরিবার এবং সুশান্তের অনুরাগীদের মনে বইছে খুশির বন্যা। ‌

তবে এই রায় ঘোষণার পরে ফের শুরু হয়েছে মহারাষ্ট্র বনাম বিহার সরকারের তরজা। সুশান্ত সিং রাজপুত এর অস্বাভাবিক মৃত্যু বহুদিন আগেই বলিউডের গণ্ডি ছাড়িয়ে ঢুকে পড়েছে রাজনীতির অন্দরে। প্রথমে মুম্বই পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত করলেও পরবর্তীকালে সুশান্তের বাবা যখন বিহারের রাজেন্দ্র নগর থানায় রিয়া চক্রবর্তী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ভারতীয় সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ দায়ের করেন তখন সেই মামলার তদন্ত করতে বিহার পুলিশের দল আসে মুম্বইয়ে। তখন শুরু হয় মহারাষ্ট্র সরকার বনাম বিহার সরকারের লড়াই। মাঝে গোটা ঘটনায় ঢুকে পড়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেটের মত কেন্দ্রীয় সংস্থা। তারা আর্থিক তছরুপের বিষয়টি নিয়ে তাদের তদন্তপ্রক্রিয়া শুরু করে।

মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায় থাকা শিবসেনা দাবি করে যে, মুম্বই পুলিশ তার তদন্ত কাজ ঠিকমতো করছে। আবার বিহার সরকারের পক্ষ থেকে এলজেপি প্রধান চিরাগ পাসওয়ান সিবিআই তদন্তের পক্ষে সওয়াল করতে থাকেন। বিহার পুলিশের ডিজি গুপ্তেশ্বর পান্ডে মুম্বই পুলিশের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো সরব হতে শুরু করে।

স্বাভাবিকভাবেই বিহার সরকারের প্রতিনিধিরা সুপ্রিম কোর্টের রায় যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত।

চিরাগ পাসওয়ান জানিয়েছেন, “এবার সত্য সামনে আসবে। আর সেই সমস্ত নামও প্রকাশ্যে আসবে যারা তদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।” আরজেডি নেতা লালু পুত্র তেজস্বী যাদব সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।

অপরদিকে মহারাষ্ট্রের পুলিশ কমিশনার পরম বীর সিং জানিয়েছেন, যতক্ষণ না সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কপি তাদের হাতে আসছে ততক্ষণ তারা এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করবেন না।

শিব সেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত এবং মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ এর গলাতেও শোনা গেল একই সুর। সঞ্জয় রাউত যেমন বলেছেন যে “প্রমাণিত হল, আইন সবার আগে।”

যদিও মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ মহারাষ্ট্র সরকারকে গোটা ব্যাপারে এক হাত নিয়েছেন। তাঁর দাবি যেভাবে এই মামলার তদন্ত মুম্বই পুলিশ শুরু থেকে করেছে তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে রিয়া চক্রবর্তীর আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডের দাবি যে রিয়া যেমন তদন্তে মুম্বই পুলিশ এবং ইডিকে সাহায্য করেছেন সেরকম সিবিআইকেও সাহায্য করবেন।

Related Articles

Back to top button