সব খবর সবার আগে।

সাহিত্য ও চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া, প্রয়াত চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত!

ফের এক মৃত্যুর সাক্ষী সাহিত্য ও চলচ্চিত্র জগত। না ফেরার দেশে বিখ্যাত চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। না তবে এবার করোনা নয়, ঘুমের মধ্যেই আজ, বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যুবরণ করেন পরিচালক। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

বার্ধক্যজনিত সমস্যা তো ছিলই, তার সঙ্গেও ছিল কিডনির সমস্যাও। বহুদিন ধরে চলছিল ডায়ালিসিস। স্বনামধন্য পরিচালকের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সাহিত্য ও চলচ্চিত্র জগত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে টলিপাড়ার কলাকুশলীরা পরিচালকের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন।

বিখ্যাত পরিচালকের পাশাপাশি একজন বিখ্যাত কবিও ছিলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। তাঁর পরিচালিত একাধিক ছবি দেশে-বিদেশে রয়েছে, তাদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ‘চরাচর’, ‘তাহাদের কথা’, ‘বাঘ বাহাদুর’, ‘উত্তরা’, আরও অনেক। বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত পরিচালিত পাঁচটি ছবি জাতীয় পুরস্কার ছিনিয়ে আনে, এগুলি হল, ‘লাল দরজা’, ‘চরাচর’, ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’, ‘বাঘ বাহাদুর’, ও ‘কালপুরুষ’।

এছাড়াও, বাংলার সেরা ফিচার ফিল্মের জন্যও পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ছবিগুলি হল- ‘দুরত্ব’ ও ‘তাহাদের কথা’। এমনকি, ‘স্বপ্নের দিন’ ও ‘উত্তরা’ ছবিদুটির জন্য দু’বার জিতে নিয়েছেন সেরা পরিচালক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার। পরিচালনার পাশাপাশি লিখেছেন নানান কাব্যগ্রন্থও। এর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ‘ছাতা কাহিনী’, ‘রোবটের গান’, ‘গভীর আড়ালে’ ইত্যাদি। বাংলা ছবির পাশাপাশি নানান হিন্দি ছবিও বানিয়েছেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত।

১৯৪৪ সালে দক্ষিণ পুরুলিয়ার অনারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। তাঁর বাবা রেলের চিকিৎসক হওয়ার দরুন তাঁর ছোটবেলা কেটেছে নানান স্থানে ঘুরে ঘুরে। এরপর ১২ বছর বয়সে পড়াশোনার জন্য কলকাতায় আসেন তিনি। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে অর্থনীতি নিয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হন তিনি। এরপর ভর্তি হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত নিজের কর্মজীবন শুরু করেন শ্যামসুন্দর কলেজে অর্থনীতির লেকচারার হিসেবে। এরই ফাঁকে তাঁর মন যায় সিনেমার দিকে। ধীরে ধীরে সিনেমা জগতে প্রবেশ করেন তিনি। কলকাতা ফিল্ম সোসাইটিতে ইঙ্গমার বার্গম্যান, চার্লি চ্যাপলিনের নানান বিখ্যাত ছবি দেখে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হন পরিচালক।

পরিচালক হিসেবে জীবনযাত্রা শুরু করেন ১৯৬৮ সালে ‘কন্টিনেন্ট অফ লাভ’ নামের ১০ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র পরিচালনার মাধ্যমে। এরপর পরিচালনা করেন নিজের জীবনের প্রথম ফিচার ফিল্ম শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের রচনা অবলম্বনে ‘দুরত্ব’। তাঁর কাব্যের ভাব তাঁর নানান ছবিতেও প্রকাশ পেয়েছে।

সারাজীবনে দেশে বিদেশে নানান সম্মানে ভূষিত হয়েছেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। ২০০৭ সালে পান ‘অ্যাথেন্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’এর ‘গোল্ডেন অ্যাথানা’ পুরস্কার। ২০০৮ সালে তিনি সম্মানিত হন স্পেন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে জীবনকৃতি সম্মানে। এছাড়াও আরও নানান বিদেশী ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে একাধিকবার মনোনয়ন পাওয়ার পাশাপাশি পেয়েছেন নানান পুরস্কারও। ২০০০ সালে বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত ‘উত্তরা’ ছবির জন্য পান ‘গোল্ডেন লায়ন’ পুরস্কার।

এমনকি, অবসরও নিতে চান নি পরিচালক কোনওদিন। অসুস্থ অবস্থাতেও লিখে গিয়েছেন নতুন ছবির চিত্রনাট্য।

You might also like
Comments
Loading...