ফিচার

কাল ছিল শাহরুখ দিবস, তাই শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনকেই ভুলে গেল বাঙালি!

দেখতে দেখতে চলে গেল ২রা নভেম্বর। আচ্ছা বলুন তো ২রা নভেম্বর দিনের কথা বললেই আপনার কার কথা মনে পড়ে? গতকাল কার জন্মদিন ছিল? উত্তরটা ঠোঁটের ডগায় এসে গেল তো? আপনি বলবেন কালতো শাহরুখ খানের জন্মদিন ছিল। কিন্তু বলিউড তারকার জন্মদিন নিয়ে মাতামাতি করতে গিয়ে আপনি বাঙালি হয়ে ভুলেই গিয়েছেন কালকে আরেক প্রতিভাবান এবং স্বনামধন্য বাঙালিরও জন্মদিন ছিল। এই বাঙালি কিন্তু আমাদের ছোটবেলায় আমাদের বাংলা সাহিত্যের ভিত শক্ত করেছিলেন। শিশু সাহিত্যে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। এখনো নিশ্চয়ই মনে পড়ছে না কার কথা বলা হচ্ছে এখানে? প্রখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের গতকাল জন্মদিন ছিল এবং বাঙালি তা বেমালুম ভুলে গিয়েছে!

দেশের নানা প্রান্তে শাহরুখের অবাঙালি অনুগামীরা কালকে নেটদুনিয়ায় রীতিমতো উৎসব করছিলেন শাহরুখের জন্মদিন উপলক্ষ্যে, আমাদের বাঙালিরা কম কিছু যাচ্ছিলেন না। পরশুদিন রাত বারোটা থেকেই বাঙালিরা ফেসবুকজুড়ে শাহরুখ খান দিবস পালন করতে শুরু করেছিলেন।সেটা করতে গিয়ে ভুলেই গেলেন যে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও গতকাল জন্মগ্রহণ করেছিলেন। হাতেগোনা কয়েকজন বলা যেতে পারে, মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখা যাবে এমন সংখ্যক মানুষ কাল ফেসবুকে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং ছবি দিয়ে পোস্ট দিয়েছেন।

১৯৩৫ সালের ২রা নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। গতকাল তিনি পঁচাশি বছরে পদার্পণ করেছেন। জীবনজুড়ে তিনি’ বাঙালিদের জন্য উপহার দিয়ে গেছেন নিজের অসামান্য শক্তিশালী কলমের রচনা। মানবজমিন, দূরবীন, পার্থিব, দোসর, পারাপার, কাগজের বউ, জীবনপত্র সহ আরো কত রচনা তাঁর অসামান্য লেখনশৈলীর সাক্ষাৎ পরিচয় বহন করে। এইতো গেল বড়দের জন্য রচনা কিন্তু শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বর্তমানে মূলত বেশি পরিচিত যেন শিশু সাহিত্যিক হিসাবে। শিশুদের মন বোঝে তাদের উপযোগী করে তিনি যে উপন্যাস কোন লেখেন তা বড় থেকে ছোট সকলেই কিন্তু পড়তে ভালোবাসে। সাধুবাবার লাঠি, গোঁসাইবাগানের ভূত, পাতালঘর সব কিন্তু শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা।

তার লেখা গল্প উপন্যাস থেকে কত যে বাংলা সিনেমা হয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। ঋতুপর্ণ ঘোষ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কাজের অন্যতম ভক্ত ছিলেন তাই তিনি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা অবলম্বনে তৈরি করেছিলেন দোসর, হীরের আংটি সিনেমাগুলি। গয়নার বাক্স, আশ্চর্য প্রদীপ এই সফল সিনেমা গুলির মূল গল্প কিন্তু শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা।

তবে তিনি কি শুধু এই একই ধারার গল্প লেখেন নাকি অন্য কিছুও লেখেন? এই প্রশ্নের উত্তর তিনি দিয়ে দিয়েছেন শবর গোয়েন্দা সিরিজ লিখে। বাঙালির এত প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র শবর দাশগুপ্তের প্রতিষ্ঠাতাকেই কাল বাঙালি ভুলে গিয়েছিল। তার নামের পাশে রুপোলি পর্দার জৌলুস নেই কিন্তু নিজের জগতে তিনি কিন্তু নিজের প্রতিভায় উজ্জ্বল। তিনি বাঙালিদের গর্ব।গোটা বিশ্ব কিন্তু তাকে প্রখ্যাত সাহিত্যিক হিসাবে চেনে।শুধু বাঙালিরাই তাকে ভুলে গিয়েছে।

আসলে বাঙালি তো আত্মবিস্মৃত জাতি, নিজের প্রতিভা কদর করতে জানেনা, অন্যান্য প্রতিভাকে তারা মাথায় তুলে নাচে। এটা চিরকাল ধরেই হয়ে আসছে। সত্যিই কি কালকে শাহরুখ খানকে নিয়ে আমরা যে মাতামাতি করলাম তার সিকিভাগও প্রাপ্য ছিল না শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর জন্য? রইল প্রশ্ন।

Related Articles

Back to top button