উৎসব

কেন আজকের দিনে হয় ভাইফোঁটা?জানুন পৌরাণিক ইতিহাস ও আরো নানা অজানা কাহিনী

আজ ৬ই নভেম্বর, আজ গোটা বাংলায় পালিত হবে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া তথা ভাইফোঁটা। প্রতিবছর কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এই অনুষ্ঠান পালিত হয়। কিন্তু হঠাৎ এই ভাইফোঁটা আসল কোথা থেকে? জানুন পৌরাণিক ইতিহাস।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নরকাসুর নামে এক রাক্ষসকে বধ করার পর তাঁর বোন সুভদ্রার তাঁকে আরতি করে তিলক লাগিয়ে গৃহে আহ্বান জানান। আর সেই থেকে ভাইফোঁটা রীতি চালু আছে।

অন্যদিকে জানা যায় সূর্য দেবতা সূর্য সমজ্ঞা নামে একটি মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের যমজ সন্তান ছিল যম ও বর্ণী। সমজ্ঞা সূর্যের তাপকে অসহ্য মনে করতেন। তাই পৃথিবীতে চলে আসেন। এমন সময় ছায়ার সঙ্গে সূর্যদেবের বিয়ে হয়। ছায়া তাঁর সন্তানদের জন্ম দেন এবং সূর্যদেবের প্রথম পক্ষের সন্তান যম ও বর্ণীর সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করে। এতে বিরক্ত হয়ে বর্ণী পৃথিবীতে চলে আসেন। কয়েক বছর পর যম বর্ণীকে দেখার সিদ্ধান্ত নেন। আর ভাইকে স্বাগত জানাতে বর্ণী একটি বড় ভোজ প্রস্তুত করেছিলেন। যম চলে যাওয়ার সময় বোনকে কিছু উপহার দিতে বর্ণীর কাছে তাঁর ইচ্ছে জানতে চান। বর্ণী, দাবি করেন যে, এই দিন মানে দীপাবলির পরে দ্বিতীয় দিন, সমস্ত ভাই তাদের বোনদের সাথে দেখা করুক এবং বোনেরা তাদের ভাইয়ের সুখ এবং দীর্ঘায়ুর জন্য প্রার্থনা করুক। সেই থেকেই ভাইফোঁটার রীতি চালু হয়েছে।

তবে শুধুমাত্র বাংলায় নয়, গোটা ভারতেই এই উৎসব বিভিন্ন নামে পালিত হয়। কর্নাটকে এই অনুষ্ঠানকে বলা হয় সোদারা বিদিগে। নেপালে ভাই টিকা, মহারাষ্ট্রে ভাউবীজ, উত্তর ভারতে ভাইয়া দুজ বা ভাই দুজ। আর গুজরাটে ভাই বেজ। দক্ষিণ ভারতের অনেক জায়গায় যম দ্বিতীয়া নামে পরিচিত এই উৎসব।আমরা চন্দন,ঘি ও কাজলের ফোঁটা পরাই ভাইকে। অন্যান্য রাজ্যে চাল বা সিঁদুরের টীকা পরানোর চল রয়েছে।

Related Articles

Back to top button