উৎসব

ভূত চতুর্দশীতে কেন জ্বালানো হয় ১৪ প্রদীপ? ১৪ শাক খাওয়ার নেপথ্যেই বা কারণ কী? জানুন ইতিহাস

আজ ভূত চতুর্দশী। এদিন বাড়িতে বাড়িতে ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম রয়েছে। এদিন পরিবারের ১৪ পুরুষের উদ্দেশ্যে এই ১৪ প্রদীপ জ্বালানো হয়ে থাকে। এছাড়াও রীতি রয়েছে ১৪ শাক খাওয়ার।

ভূত চতুর্দশী আসলে কী?

দীপান্বিতা কালীপুজোর আগেরদিন অর্থাৎ কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীর দিন পালন করা হয় এই ভূত চতুর্দশী। এই ভূত কথার হল অতীত। এদিন পরিবারের ১৪ পুরুষের উদ্দেশে প্রদীপ জ্বালানো হয়। সাধারণত, ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানো হয়।

পুরাণ অনুযায়ী, এই ভূত চতুর্দশীর দিন থেকেই ধীরে ধীরে মা কালী জাগ্রত হতে শুরু করেন। সেদিন থেকেই শুরু হয় অশুভ শক্তির বিনাশ। এই ভূত চতুর্দশীর দিন বাড়ির সমস্ত জায়গায় আলো রাখতে হয়। জ্বালানো হয় প্রদীপ। কোথাও আলো নেভাতে নেই।

কেন খাওয়া হয় ১৪ শাক?

প্রতি বছর ভূত চতুর্দশীতে বাঙালি পরিবারে ১৪ শাক খাওয়ার রীতি রয়েছে। এই শাকগুলি হল – ওল, সরষে, নিম, বেতো,  গুলঞ্চ, শুশনি, হিলঞ্চ, জয়ন্তী, শাঞ্চে, কেঁউ, কালকাসুন্দে, পলতা, ভাটপাতা এবং শৌলফ। তবে বর্তমানে একেবারে ওই ১৪ শাকই যে খাওয়া হয়, তা নয়। এতে কিছুটা হেরফের হয়।

কথিত আছে, এক ব্রাহ্মণ ও তাঁর স্ত্রী তাদের বাড়ি খুব নোংরা করে রাখতেন। পরিষ্কারের কোনও বালাই ছিল না। ফলে ক্রমশ নোংরা জমতে থাকে বাড়িতে। এর ফলে বাড়িতে আগমন হতে থাকে ভূতের। একদিন ওই ব্রাহ্মণের নজরে পড়ে সেই ভূতেদের শোরগোলে। এরপরই তাঁর টনক নড়ে। বাড়ি-ঘর পরিষ্কার শুরু করেন তিনি। ১৪ ধরনের গাছের পাতা দিয়ে পুরো বাড়িতে গঙ্গার জল ছেটানো হয়। এর থেকেই ১৪ শাক খাওয়ার নিয়ম শুরু হয়েছে।

Related Articles

Back to top button