উৎসব

আদালতের দুর্গা মণ্ডপে ‘নো এন্ট্রি জোন’ মামলায় মন ভাঙল তরুণীদের, হেয়ার স্ট্রেটনিং করানোর খরচ জলে

দুর্গাপুজো তো বছরে একবারই আসে। এই চারটে দিনের জন্য চারিদিকে কত প্রস্তুতি। চারদিনের জন্য মা আসেন মর্ত্যে। জায়গায় জায়গায় শুরু হয় মাতৃ বন্দনার প্রস্তুতি। এই পুজোর জন্য অনেকরকম প্রস্তুতি নেন সব তরুণীরাও। পুজোর সময় নিজেকে আরও সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার একটা উদ্বেগ থেকেই যায় সকলের মধ্যে। ফেসিয়াল থেকে শুরু করে হেয়ার স্ট্রেটনিং, স্মুদনিং, হেয়ার স্পা, বিভিন্ন স্টাইলে চুল কাটা, এসব লেগেই থাকে। এবছরও তালিকা থেকে বাদ পড়েনি রূপচর্চার এই জিনিসগুলি। কিন্তু হায় রে! শেষে এ কী হল? আদালতের নির্দেশে তো এ বছর ঠাকুর দেখাই পণ্ড রীতিমতো। এই নিয়েই মন ভেঙেছে বহু মহিলার। ঠাকুর দেখতে যদি বেরোতেই না পারলেন তাহলে আর এতো দাম দিয়ে এতো রূপচর্চার করার কি মানে দাঁড়াল।

করোনা পরিস্থিতি থাকলেও অতিমারিকে সঙ্গে নিয়েই সব জায়গায় শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। রাজ্য সরকারের জারি করা সমস্ত বিধিনিষেধ মেনেই মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানোর ব্যবস্থাও প্রায় শেষ, এমন সময় বেঁকে বসল কলকাতা হাইকোর্ট। গত সোমবারই হাইকোর্ট নির্দেশিকা জারি করে জানায় যে, এ বছর রাজ্যে দুর্গাপুজো হবে দর্শকশূন্য। দর্শনার্থীরা মণ্ডপে প্রবেশ করতে পারবেন না। আদালতে এই রায়ের বিরোধিতা করে ফোরাম অফ দুর্গোৎসব। কিন্তু সেই আবেদনও খারিজ করা হয় আদালতের তরফ থেকে। বহাল থাকে আগের রায়ই।

এমন অবস্থায় বেশ বিভিন্ন পুজো কমিটির সঙ্গে সঙ্গে চিন্তায় পড়েছে তরুণীদের একাংশও। অনেকেই মন খারাপ করে জানিয়েছেন এতো টাকা খরচা করে যে চুল স্ট্রেট করলাম, ফেসিয়াল করলাম, ঠাকুর দেখতে যাব বলে, এখন কী হবে? মণ্ডপের ভেতরেই যদি না ঢুকতে পারলাম তাহলে ঠাকুর দেখতে গিয়ে লাভ কি? এর চেয়ে ঘরে বসে থাকলেই হয়। শুধু শুধু এক গাদা টাকা জলে গেল।

সত্যিই তো, এতো গুলো টাকা বেকার। পুজোতে যদি নিজের সাজ কাউকে দেখাতেই না পারা যায়, তাহলে আর সেই সাজের কি কোনও গুরুত্ব থাকে। কিন্তু এর জন্য যদি মণ্ডপে ছোটো জায়গার মধ্যে ভিড়ে ঠাসাঠাসি করে আরও কিছু মানুষ করোনাতে আক্রান্ত হন, তাহলে হোক না, ক্ষতি কি? অন্তত রূপচর্চার টাকা তো উসুল হত।

Related Articles

Back to top button