সব খবর সবার আগে।

রোজ সকালে উঠে ট্রেডমিলে তো দৌড়ান, জানেন কি এক সময়ে শরীরে অত্যাচার করার জন্যই তৈরি হয়েছিল এই ট্রেডমিল?

আজকালকার দিনে শরীর চর্চা করেন না এরকম মানুষ খুব কম আছেন। চারিদিকে রোগের সমাহার, প্রেসার সুগারের মত রোগ তো এখন ঘরে ঘরে লেগে আছে। সেজন্য ডাক্তার বাবু রাও বলেন প্রত্যেকদিন নিয়ম করে কিছুটা ঘাম ঝরাতে।

আর যারা সহজে একটু ঘাম ঝরাতে চান তারা বাড়িতে কিনে নিয়েছেন ট্রেডমিল। ট্রেডমিলে উঠে মিনিটের পর মিনিট দৌড়ানোটা এখন হালফ্যাশানের শরীরচর্চার নয়া দিক খুলে দিয়েছে।কিন্তু এই ট্রেডমিল যে আসলে শরীরের উপর অত্যাচার করতে তৈরি হয়েছিল একসময় তা জানেন কি?

আসুন ট্রেডমিল তৈরীর ইতিহাসের গল্প টা জেনে নেওয়া যাক। ১৮১৮ সালে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার যার নাম স্যার উইলিয়াম ক্যুবিট ইংল্যান্ডের জেলখানায় তথাকথিত অলস বন্দীদের জন্য একটি যন্ত্র তৈরি করেন। যন্ত্রটির নাম ট্রেড হুইল, এটি একটি ২৪টি স্পোকবিশিষ্ট বিশাল আকার পায়ে চাপ দিলে উপরে উঠতেই থাকবে এরকম একটি যন্ত্র। যত উপরের দিকে উঠে যাবে ততো ঘষা লেগে যন্ত্রের নিচে থাকা শস্য বা জল থেকে মাড়াই হয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি হবে। যেহেতু জিনিসপত্র তৈরি করা যায় সেজন্য এর আরেকটি নাম দেওয়া হয়েছিল ট্রেডমিল।

যদি টানা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা এই যন্ত্রটির উপর হাঁটা যায় তবে তা ১১০০০ ফুট ওঠার সমান হবে। ইংল্যান্ডে জেলে বন্দীদের এই ট্রেডমিলে হাঁটানো শুরু হলো। যথাযথ খাদ্যের অভাব আর এই টানা পরিশ্রমের কারণে বন্দী মৃত্যুর খবর আসতে লাগল ইংল্যান্ডের জেল থেকে। অথচ এর ব্যবহার কমলো না, বরং ইংল্যান্ড থেকে তা ছড়িয়ে পড়ল আমেরিকায়।

অন্যদিকে, হৃদপিন্ডের রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র হিসেবে ট্রেডমিলের ব্যবহার শুরু হলেও ১৯৫২ সাল থেকে। ডক্টর রবার্ট ব্রুস ও ওয়েন কুইন্টনের তৎপরতায় ট্রেডমিল বসানো হলো ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে বাড়িতে ট্রেডমিলের ব্যবহার সম্পর্কে মানুষ অবগত হয়। এখন বাড়িতে জিমে সংশোধনাগারে ফিজিওথেরাপি সেন্টারে অত্যাধুনিক ট্রেডমিল দেখা যায়।

You might also like
Comments
Loading...