লাইফ স্টাইল

‘করোনা’-র থাবা ক্যাটারিং ব্যবসাতেও! লাভের বদলে লোকসানের টাকা গুনছেন ক্যাটারার ব্যবসায়ীরা

মুরগি থেকে নাকি নোভেল করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছে! এমনই আতঙ্কে তটস্থ কলকাতা সহ রাজ্যবাসী। করোনা থেকে বাঁচতে অধিকাংশই মুরগির মাংস খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। যার ফলে চড়চড় করে দাম পড়ছে মুরগীর মাংসের। এমনকি মুরগির ডিম বিক্রিতেও ভাটা পড়েছে। আর এর ফায়দা লুঠছেন মটন ব্যবসায়ীরা। যখন মুরগীর মাংসের দাম কমছে, তখন গোটা খাসি থেকে শুরু করে পাঁঠার মাংসের দাম লাগামছাড়া হারে বাড়ছে। আর এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন ক্যাটারার ব্যবসায়ীরাও। বলা ভাল, লাভের বদলে লোকসানের হিসেব কষতে বসেছেন তাঁরা।

কলকাতা-সংলগ্ন অঞ্চলের বাজার ঘুরলে জানা যায়, মাস খানেক আগেও কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মুরগির মাংসের দাম ছিল কেজি প্রতি ১৮০-১৯০ টাকা। বর্তমানে করোনা-আতঙ্কের জেরে সেটা নেমে দাঁড়িয়েছে ৮০-১০০ টাকা কেজি। অন্যদিকে, পাঁঠার মাংসের দাম কেজি প্রতি ছিল ৫৮০-৬০০ টাকা। গত কয়েক সপ্তাহে একলাফে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে কেজি প্রতি ৬৩০-৬৮০ টাকা। দামের এই আকাশ-পাতাল হেরফেরের জেরে একদিকে যেমন চিকেন ব্যবসায়ী, পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এবং তার সুযোগ নিচ্ছেন মটন ব্যবসায়ীরা, তেমনই ক্যাটারার ব্যবসায়ীদেরও মাথায় হাত দেওয়ার জোগাড় হয়েছে।

কেননা এখন বিয়ের ভরা মরশুম চলছে। কয়েক মাস আগে থেকেই ক্যাটারার, বিয়েবাড়ির হল বুকিং হয়ে যায়। যে সমস্ত ক্যাটারার ব্যবসায়ী বিয়েবাড়িতে মটন দেওয়ার বুকিং নিয়েছিলেন, তাঁরা কেজি প্রতি ৫৮০-৬০০ টাকা মটন-এর দামেই প্লেটের দাম ফেলেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে মটন-এর দাম বেড়ে গেলেও আগে থেকে বুকিং নেওয়া অনুষ্ঠানের প্লেট প্রতি দাম বাড়াতে পারছেন না। কেননা গ্রাহক সে সমস্ত কথা শুনবে না। তাই প্লেটের দাম এক রেখেই ক্যাটারার ব্যবসায়ীদের ৬৩০-৬৮০ টাকা কেজি দরে মটন কিনে গ্রাহকদের পাতে পরিবেশন করতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতার এক প্রখ্যাত ক্যাটারার ব্যবসায়ীর কথায়, ‘করোনার জেরে ব্যবসা গোটানোর পরিস্থিতি হয়েছে। বিয়েবাড়িতে মটন-প্লেটের যে অর্ডারগুলি আগে থেকে নেওয়া রয়েছে, সেগুলিতে ভালো টাকার ক্ষতি হবে।’ আরেক ক্যাটারার ব্যবসায়ী বলেন, ‘ক্রেতাদের অনেকে আগে চিকেন-প্লেটের অর্ডার দিয়ে থাকলেও এখন সেটি বদলে মটন-প্লেট করতে বলছেন। কিন্তু এখন মটন-এর যা দাম! আগে থেকে চিকেন-প্লেটের বুকিং করা ক্রেতারা সেই তুলনায় দাম দিচ্ছেন না।’ আবার এখন যাঁরা ক্যাটারিংয়ের বুকিং করছেন, তাঁদের অনেকেই নিরামিষ প্লেট করার দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে চিকেন-মটন বাদ দেওয়ায় লভ্যাংশের হার অনেকটাই কমে যাচ্ছে বলে ক্যাটারার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। অর্থাৎ কোনও অনুষ্ঠানে ক্যাটারিং করে যা লাভ করার কথা ছিল, এখন সেই অনুষ্ঠান থেকে কীভাবে লোকসানের হাত থেকে বাঁচা যায় সেটাই ভাবতে বসেছেন ক্যাটারার ব্যবসায়ীরা।

Related Articles

Back to top button