সব খবর সবার আগে।

সংসারে খুব অর্থকষ্ট চলছে? তাহলে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার এভাবে তুলসীগাছের পুজো করুন, সংসারে সুখ ফিরবে

লক্ষ্মীদেবীর অপর নাম তুলসী। হিন্দুদের ঘরে ঘরে তুলসী গাছ দেখা যায়। কিছু বছর আগেও প্রত্যেক হিন্দু বাড়িতে তুলসীতলা থাকত। ঠাকুমা-দিদাদের হাত ধরে বাড়ির বাচ্চারা সন্ধ্যে হলেই তুলসীবেদীতে প্রণাম করতে যেত।

ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে তুলসী ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তুলসীর অনেক গুণ রয়েছে। তুলসী একদিকে যেমন সর্দিকাশি সারায়, তেমনই আবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। আবার ঘরে ঘরে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ায় ও ঘরে পজিটিভ এনার্জি আনে। প্রাচীনকাল থেকেই তুলসীর বিশেষ যত্ন ও আদর করা হয়ে থাকে।

মনে করা হয় তুলসী গাছে স্বয়ং দেবী লক্ষ্মীর বাস। প্রাচীন কাল থেকেই তুলসী গাছকে বিষ্ণুপ্রিয়া হিসেবে পুজো করা হয়ে আসছে। মনে রাখবেন, শাস্ত্র অনুযায়ী কিন্তু লক্ষ্মীদেবীর আরাধনায় তুলসীপাতা ব্যবহার করা যায় না। তুলসীর সঙ্গে শালগ্রাম শিলার অর্থাৎ নারায়ণের বিবাহ হয়। শ্রীলক্ষ্মীও বিষ্ণুপত্নী। এই কারণে তাঁর আরাধনায় তুলসীপাতা ব্যবহার করলে লক্ষ্মীদেবী রুষ্ট হন।

তুলসী গাছ বসান ঘরের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে। দিনে ছয় থেকে আট ঘণ্টা রোদের প্রয়োজন তুলসী গাছের। এই কারণে তুলসী গাছ এমন জায়গায় রাখুন, যাতে সেটি পর্যাপ্ত পরিমাণে সূর্যের আলো পায়। শাস্ত্র অনুযায়ী, রবিবার, একাদশী এবং সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ থাকলে সেদিন তুলসী গাছে জল দিতে নেই।

প্রতি লক্ষ্মীবার অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তুলসী গাছ পুজো করলে জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি আসে। এদিন স্নান সেরে তুলসী গাছের গোড়ায় দুধ ঢালুন। সন্ধ্যায় একটি ঘিয়ের প্রদীপ তুলসী গাছের সামনে জ্বেলে রাখুন। এর ফলে লক্ষ্মীদেবী প্রসন্ন হন।

দেবী তুলসীকে সর্বদা প্রসন্ন করার জন্য প্রতিদিন স্নানের পর সিক্ত বস্ত্রেই একটি ঘটিতে গঙ্গাজল অথবা পরিষ্কার জল নিয়ে  ‘নমঃ তুলসী কল্যাণী নমো বিষ্ণুপ্রিয়ে শুভো নমো মোক্ষপ্রদে দেবী নমঃ সম্পৎপ্রদায়িকে’ মন্ত্র পাঠ করুন। এতে  মাতা তুলসী সর্বদা প্রসন্ন থাকবেন এবং তাঁর আশীর্বাদে আপনার সংসারে ধনসম্পদ এবং মোক্ষ লাভ হয়।

You might also like
Comments
Loading...