সব খবর সবার আগে।

কেদারনাথ থেকে পুরী, সর্বত্রই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অক্ষত থেকেছে দেবালয়।

0 0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

সে হিমালয়ের কোলে থাকা কেদারনাথ হোক কিংবা বঙ্গোপসাগরের পাশেই থাকা পুরী, সর্বত্রই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আশ্চর্যজনক ভাবে অক্ষত অবস্থায় থেকে গিয়েছে সেখানকার দেবালয়গুলো। তবে কী একেই বলে ঈশ্বরের মহিমা? সমুদ্র পার হোক কিংবা হিমালয়, সব স্থানেই কখনও না কখনও ঘটে গেছে মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলোতে সেখানকার প্রায় সব জিনিস নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও একটিও আঘাতের চিহ্ন পায়নি সেখানকার কয়েক শতাব্দী প্রাচীন দেবালয়গুলি। যা সত্যি অবাক করার মতো ঘটনা।

আরও পড়ুন – বাংলাদেশে প্রবেশ করেই ফের ভয়ঙ্কর ‘ফণী’। মৃত অন্তত ১৫৷

সালটা ২০১৩, জুন মাসের এক ভয়াবহ পাহাড়ি বন্যায় ভেসে গিয়ে তছনছ হয়ে গিয়েছিল কেদারনাথ সহ উত্তরাখন্ডের বিস্তৃর্ণ এলাকা। ভেসে গিয়েছিল একের পর এক পাহাড়ি গ্রাম। ধসে চাঁপা পরে, পাহাড়ি নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন শত শত মানুষ৷ অথচ আশ্চর্যজনক ভাবে অক্ষত থেকে গিয়েছিল কেদারনাথ মন্দির৷ ভগবান শিব এখানে কেদারনাথ রূপে পূজিত হয়৷ কথিত আছে পান্ডবরা এই স্থানে ভগবান শিবকে প্রথম পূঁজো করে সন্তুষ্ট করেছিলেন৷ এরপরই কেদারনাথ হয়ে ওঠে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের অন্যতম এক তীর্থক্ষেত্র৷

 

২০১৩ সালে সেখানেই অতি বৃষ্টিতে শুরু হয় এক ভয়ঙ্কর বন্যার। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণিত হয় কেদারনাথের আশেপাশের গ্রামগুলো। অথচ আশ্চর্য ভাবে বেঁচে যায় কেদারনাথ মন্দির৷ মন্দিরের ঠিক পেছন থেকেই যেভাবে বন্যার জল সরাসরি এসেছিল তাতে এই মন্দির অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে বন্যার জলের সঙ্গে ভেসে আসা বড়ো বড়ো পাথরগুলোরই একটি এসে ঠিক থেমে গিয়েছিল কেদারনাথ মন্দিরটির সামনে। আর সেই বড়ো পাথরের চাইঁতেই বাঁধা পেয়ে প্রবল বন্যার স্রোত মন্দিরকে সরাসরি আঘাত না করে বেরিয়ে গিয়েছিল মন্দিরের দুপাশ দিয়ে। সেসময় মন্দিরের অন্দরে যারা ছিলেন প্রত্যেকেই প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। অথচ বাইরে তখন চারপাশ পরিণত হয়েছিল ধ্বংসস্তূপে।

আরও পড়ুন – ওড়িশা কার্যত এখন ধ্বংসস্তূপ। তারমধ্যেই নতুন করে পথ চলার চেষ্টা।

সেই একই অবস্থা এই সময় ওড়িশার পুরীতে৷ পুরীতে অবস্থিত হিন্দুদের আরও এক অন্যতম তীর্থক্ষেত্র শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের কয়েক শতাব্দী প্রাচীন মন্দির৷ গত ৩ তারিখ সকাল ৯ টায় এই পুরীতে সর্বশক্তি নিয়ে ঘন্টায় প্রায় ২০০ কিমি গতিবেগে আছড়ে পরে সাইক্লোন ‘ফণী’। টানা তিন ঘন্টা ‘ফণী’ র তান্ডবে এই মুহূর্তে চারদিকে ধ্বংসাবশেষের ছড়াছড়ি পুরী এবং ওড়িশার অন্যান্য অঞ্চলগুলিতে। অথচ কেদারনাথের মতোই আশ্চর্য ভাবে একটিও আঘাতের চিহ্ন ছাড়া দাঁড়িয়ে রয়েছে পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দির।

‘ফণী’ কে নিয়ে সতর্কতা জারি হয়েছিল অনেক আগেই। এই মারাত্মক ঝড় মোকাবেলা করার জন্য সমস্ত চেষ্টা করা সত্ত্বেও প্রাণহানী ঘটেছে প্রায় ১২ জন মানুষের। ভেঙে পরেছে একের পর এক দুর্বল বাড়ি। পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দির কর্তৃপক্ষ ‘ফণী’ এর আছড়ে পরার পূর্বে শুধু পাল্টে ফেলেছিলো জগন্নাথ দেবের মন্দিরের চূড়ায় লাগানো প্রাচীন পতাকাটি। সেই পতাকাটির স্থানে লাগানো হয়েছিল অপর একটি ছোটো পতাকা। এছাড়া আর বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি ঝড়ের হাত থেকে মন্দিরটিকে বাঁচাতে। কিন্তু তিন ঘন্টার প্রবল ঝড়ে গোটা পুরী তথা ওড়িশা তছনছ হয়ে গেলেও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে কয়েক শতাব্দী প্রাচীন এই জগন্নাথ দেবের মন্দিরটি। সত্যিই, কেদারনাথ ঘটনায় কেদারনাথ মন্দিরের অক্ষত অবস্থায় থাকা এবং ‘ফণী’ ঝড়ে জগন্নাথ মন্দিরের অক্ষত অবস্থায় থাকা আমাদের বারে বারে আশ্চর্য করে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More