বাংলাদেশ

কারাগারে থাকাকালীন আব্বা খাতাটা দিয়ে বলেছিলেন ‘এখন পড়বি না, যখন থাকব না তখন পড়িস’: শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারাগারে বন্দী থাকাকালীন লেখার খাতার কথা বলতে গিয়ে আবেগে ভাসলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকাকালীন কী ধরনের যন্ত্রণা ভোগ করেছিলেন তা তিনি বাইরে বলতেন না। এই সময়ের ব্যাপারে যেটুকু জানতে পেরেছেন, তা তাঁর লেখা থেকেই জেনেছেন।

আজ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে করা এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এসব তাঁর পিতার কথা বলেন। তিনি জানান, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তি আন্দোলনের সময়কালে তাঁদের বাড়িতে শুধু আক্রমণই চলেনি বরং দীর্ঘ নয় মাস যাবৎ চলেছে ব্যাপক লুটপাটও। বঙ্গবন্ধুকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর সবকিছু লুট হয়ে যায়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তাঁর লেখার খাতাগুলোর একটিও লোপাট হয় নি। মনে হয় তাদের সেগুলোর বিষয় খুব একটা আগ্রহ ছিল না। ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট হত্যাকাণ্ডে বাড়ি লুট হওয়ার পরও তিনি খাতাগুলো উদ্ধার করেছেন।

বাবার লেখা খাতার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে চোখ মোছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বাবা যখন কুর্মিটোলা কারাগারে ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন, তখন মা বাবার কাছে একটা করে খাতা দিয়ে আসতেন লেখার জন্য। আমি গেলে আমাকে বাবা লেখা খাতাটা দিয়ে বলতেন, এখন খাতাটা পড়বি না। যখন আমি থাকব না, তখন পড়িস। এরপর আর এই খাতাগুলো ধরিনি।’

বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারাজীবনের কষ্ট–যন্ত্রণার কথা প্রায় কিছুই জানাননি আব্বা। যতটুকু জেনেছি ওনার এই লেখা পড়ে। তিনি নিজে থেকে কিছু বলতে চাইতেন না। রেহানাকে (শেখ রেহানা) জিজ্ঞেস করেছি, তুই কি কিছু শুনেছিস? বাবা কি তোকে কিছু বলেছিলেন? ও ছোট ছিল, মাঝেমধ্যে আব্বার কাছে জানতে চাইত। ও বলল, বাবা বলতেন, ‘তোরা এগুলো জানলে সহ্য করতে পারবি না।’’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৬৫–৭৭ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ডিক্লাসিফাউট তথ্যগুলো পুরোটাই সংগ্রহ করা গেছে। এ থেকে হয়তো ওনার সম্বন্ধে কিছু জানা গেলেও যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘এগুলো হার্ডডিস্কে ছিল। এখন সেগুলো প্রিন্ট নেওয়া হয়েছে। তাই করোনাভাইরাসের সময় ধীরে ধীরে দেখছি।’

এর আগে জাতীয় পার্টির সাংসদ মুজিবুল হক সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, পাকিস্তানের কারাগারের দিনগুলো বঙ্গবন্ধু কেমন করে কাটিয়েছিলেন, এ বিষয়ে বই হতে পারে। বঙ্গবন্ধু সারা জীবন সংসদীয় রাজনীতিতে আস্থা রেখেছিলেন। পাকিস্তান আমলে সংসদের বিতর্কগুলো নিয়েও বই প্রকাশ করা যায়।

জাতীয় পার্টির সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদ বঙ্গবন্ধুর ওপর বিশেষ অধিবেশন ডাকার অনুরোধও করেন। তিনি বলেন, তাঁকে নিয়ে সংসদের ৩৫০ জন সাংসদ অন্তত এক সপ্তাহ আলোচনা করতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button