ভাইরাল

নিরামিষ খাবারের নাম করে জৈন ধর্মের যাত্রীকে আমিষ খাবার দিল ‘এয়ার ইন্ডিয়া’র মুসলিম কর্মী, নেই কোনও অনুশোচনার চিহ্ন, তীব্র ক্ষোভ যাত্রীর

কাজের প্রয়োজনে হোক বা কোনও জায়গায় ঘুরতে যাওয়াই হোক, ট্রেন, প্লেনই ভরসা আমাদের জন্য। আর ট্রেন বা প্লেনে দীর্ঘক্ষণ যাত্রা করার কারণে সেখানকার খাবার আমাদের হামেশাই খেতে হয়। কিন্তু সেই খাবার নিয়েই যদি আমাদের ঠকানো হয়, তাহলে? তেমনই এক ঘটনার সাক্ষী হলেন এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইটের এক দম্পতি যাত্রী।

সম্প্রতি, একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যাচ্ছে এক ব্যক্তি এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। ওই যাত্রীর অভিযোগ, তিনি ও তাঁর স্ত্রী দু’জনেই জৈন। তারা নিরামিষ আহার করেন। এই কারণে ফ্লাইটেও তারা নিরামিষ খাবারই অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু এর বদলে তাদের দেওয়া হল আমিষ খাবার।

ওই যাত্রীর অভিযোগ, এক এয়ার হস্টেজ, নাম ফাতিমা মুন্নি, তিনি তাদের খাবার পরিবেশন করেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি জানান যে তাঁর স্ত্রী খাবারে মাছের মতো কিছু গন্ধ পান। এরপরই তারা ওই এয়ার হস্টেজকে বলেন যে ওই খাবারটি আসলে আমিষ। কিন্তু দ্বিতীয়বারও সেই কর্মী জানান যে ওই খাবারটি নিরামিষ খাবারই আর তারা যাতে খাবারটি আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করেন।

সেই সময় সেখানে ছিলেন অন্য এক কর্মী ইয়ামান খান। তিনিও নিশ্চিত হয়ে জানান যে তাদের যে খাবার পরিবেশন করা হয়েছে, তা নিরামিষ। কিন্তু আসলে তা নিরামিষ ছিল না আর তা খাবার পরই ওই ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রী বুঝতে পারেন। এই ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জারি করেন ওই ব্যক্তি।

সম্পূর্ণ ঘটনাটির ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ফ্লাইটের কর্মীদের যখন বলা হয় যে তারা এত বড় একটা ভুল করেছেন, তাতে তাদের মধ্যে কোনও অনুশোচনা বোধই দেখা যায়নি। উলটে সেই মুসলিম এয়ার হস্টেজ তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ও নিজের ভুল স্বীকার করতেই চান নি তিনি। পরে ভুল স্বীকার করলেও নিজের ভুল নিয়ে কোনও অনুশোচনা দেখা যায়নি তাঁর মধ্যে, এমনটাই অভিযোগ ওই ব্যক্তির।

ওই ব্যক্তি যাত্রী এও জানান যে ফ্লাইটের বাকি কর্মীরা বারবার তাঁকে বলছিলেন যাতে তিনি এই ভিডিওটি মুছে দেন। কিন্তু তিনি তা করেন নি। তিনি তাদের সামনেই তাদের বলেন যে এই ভিডিওটি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করবেন। ওই ব্যক্তি এও জানান যে সেই খাবার খেয়ে তাঁর স্ত্রী পাঁচবার বমিও করেন আর তিনি নিজেও সেদিন আরও অন্য কোনও খাবার মুখে তুলতে পারেন নি। সেইদিনটা তাদের জীবনের সবথেকে খারাপ দিন ছিল বলে জানান ওই ব্যক্তি।

Related Articles

Back to top button