ভাইরাল

অসহায় পশুদের ভগবান! প্রতিদিন ৬০কেজি মাংস-ভাত রান্না করে ৮০০ পথকুকুরদের খাওয়ান কর্ণাটকের রজনী

এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যাদের পশুপ্রেম প্রশংসা করার মতো। অবলা পশুদের জন্য তাদের ভালোবাসা, স্নেহ মন জয় করে নেয় সকলের। আমাদের দেশে এমন মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম নয় যারা পশুদের জন্য নানান কাজ করেন।

বিশেষ করে অসহায় পথকুকুদের জন্য নানান সংস্থাকে সাহায্য করতে দেখা যায়। আবার অনেক ব্যক্তি নিজের সাধ্যমতো অবলা জীবদের জন্য দু’বেলা খাবারের বন্দোবস্ত করে দেওয়া থেকে নানান কাজ করেন। এমনই এক মহিলা হলেন কর্ণাটকের রজনী শেট্টি।

জানা গিয়েছে, গত ১৫ বছর ধরে রজনী জীব সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করেছেন। অসহায় কুকুর, বিড়াল, পাখি এমনকি অসহায় খরগোশকেও তিনি জায়গা দিয়েছেন নিজের বাড়িতে। তাঁর নিজের বাড়িকে একটি ছোটোখাটো চিড়িয়াখানা বললে বেশি বলা হবে না।

শুধু অসহায় পশুদের নিজের বাড়িতে জাউগা দেওয়াই নয়, রাস্তার কুকুরদেরও দু’বেলা খাওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন রজনী। প্রতিদিন তিনি ৬০ কেজি মাংস-ভাত রান্না করেন পথকুকুরদের জন্য। নিজে গিয়েই সেই খাবার কুকুরদের খাইয়ে আসেন তিনি।

রজনী জানান, প্রতিদিন সকালে ও রাত ৮টার পর তিনি ও তাঁর স্বামী পথকুকুরদের জন্য খাবার নিয়ে রাস্তায় বের হন। এরপর প্রায় ৮০০ কুকুরকে সেই খাবার খাওয়ান তারা। এই কাজে রজনীকে সাহায্য করে তাঁর পরিবার অন সেখানকার স্থানীয় মানুষরা। রজনীর কথায়, মানুষের সাহায্য ছাড়া এই কাজ তিনি করতে পারতেন না।

কিন্তু এমন চিন্তা আসে কী করে তাঁর মাথায়?

রজনী জানান যে একদিন তিনি বাসে করে কোনও এক জায়গায় যাচ্ছিলেন। সেই সময় এক পথকুকুরকে তিনি দেখেন খাবারের জন্য রীতিমতো ভিক্ষা করতে। এরপর রজনী দেখেন সেই কুকুরটি একটি কাগজ খাচ্ছে যাতে কোনও খাবার মুড়ে রাখা ছিল।

এই দৃশ্য দেখে খুব কষ্ট পান রজনী। স্থির করেন, রাস্তার অবলা কুকুরদের খাবারের দায়িত্ব নেবেন তিনি। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০০০ পশুকে উদ্ধার করেছেন তিনি। তাঁর স্বামী পেশায় ট্যাক্সি চালক। রজনীর তিন সন্তান রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

Related Articles

Back to top button