সব খবর সবার আগে।

হাত নয়, পায়ের আঙুল দিয়ে সেজে ওঠে ক্যানভাস! জানুন স্বপ্না অগাস্টিন-এর জীবন কাহিনী

আমরা সাধারণ মানুষরা যারা সম্পূর্ণ শারীরিকভাবে সক্ষম তারা কোন কাজ করতে গেলে অনেক বার ভাবি, অনেক সময় বিভিন্ন অজুহাতও দিই। কিন্তু এর্নাকুলামের স্বপ্না অগাস্টিন (Swapna Augustine) একদম অন্যরকম। তাঁর ছবি তাঁর হয়ছ কথা বলে, কিন্তু সেই ছবি রূপ পায় তাঁর পায়ের আঙুল দিয়ে!

হ্যাঁ, স্বপ্নার দুই হাত নেই জন্ম থেকেই কিন্তু এই মারাত্মক শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে কোনো রকম বাঁধা সৃষ্টি করতে পারেনি। পায়ের আঙ্গুল (Feet fingers) দিয়েই তুলে ধরে ক্যানভাসে রংবেরঙের চিত্র (Painting) আঁকেন স্বপ্না অগাস্টিন।

স্বপ্নার কথায়, তাঁর শিল্পী জীবনের অনুপ্রেরণা লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, আলবার্ট আইনস্টাইন বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংও হুইলচেয়ার থেকেই বিজ্ঞান সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছেন। তাই তার লড়াই এমন কিছু অভিনব নয়। বিনয়ী বক্তব্য এই লড়াকু নারীর।

মাত্র ছয় বছর বয়সেই স্বপ্নার বাবা মা অগাস্টিন এবং সোফি স্বপ্নাকে প্রতিবন্ধীদের একটি হোমে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। এই ছোট থেকেই একা বড় হওয়ার সুবাদে নিজের অক্ষমতাকে ছাপিয়ে অত্যন্ত প্রত্যয়ী হয়ে উঠেছেন স্বপ্না। কিছু বছর আগে অগাস্টিন শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজও স্বপ্ন মনে করেন তাঁর বাবাই তাঁর আসল আদর্শ এবং বাবাই তাঁকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছে।

হোমে থাকতে থাকতেই তিনি পা দিয়ে সকল কাজ করা শুরু করেন। ধীরে ধীরে পেন্টিং আঁকার উপর তাঁর ভালোবাসা গড়ে ওঠে এবং এই শিল্পে নিজের প্রতিভারও প্রকাশ পেতে থাকে।

একজন প্রতিবেশী স্বপ্নার এই প্রতিভা লক্ষ্য করে তাঁকে মাউথ এন্ড ফুট পেইন্টিং আর্টিস্ট সংস্থায় যোগদান করতে উৎসাহ দেন। এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডে এবং মুম্বাইয়েও একটি ব্রাঞ্চ অফিস আছে।

এই সংস্থায় যোগ দেওয়ার পর নিজের চিত্রকলা বিক্রয় করতে পারেন স্বপ্না। গোটা ভারতে তার মতো আরও ২৪ জন শিল্পী আছেন। বিশ্বের অন্যান্য ৮০ টি দেশ মিলে এইরকম শিল্পীদের সংখ্যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৭০০ যাদের মধ্যে স্বপ্না অগাস্টিন অন্যতম। বর্তমানে স্বপ্না চিত্রকলা ও অঙ্কন শিল্পী গোটা বিশ্বে একটি পরিচিত নাম। ধীরে ধীরে স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে স্বপ্না অগাস্টিনের।

You might also like
Comments
Loading...
Share