ভাইরাল

Umbrella বানান ভুল বলে প্রবল ট্রোলের শিকার সুদীপ্তা, ‘দু’তিনবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে’, দাবী পড়ুয়ার বাবার

একটা ভিডিও আর একটা ভুল বানান যে একজনের জীবনে এক অভিশাপ হয়ে নামতে পারে, তা যেন সুদীপ্তাকে না দেখলে বিশ্বাসই করা যেত না। পাড়া, প্রতিবেশী সকলেই এই ঘটনার জন্য শুধু সুদীপ্তাই নয়, তার গোটা পরিবারের থেকে মুখ ফিরিয়েছে। নদীয়ার সুদীপ্তা বিশ্বাসের এখন নতুন নাম ‘আমরেলা দিদি’। Umbrella বানানকে Amrela বলে ভুল করে প্রবল ট্রোলের মুখে পড়ুয়া। এই নিয়ে এবার সরব হলেন সুদীপ্তার বাবা।

নদিয়ার একটি স্কুলের সামনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য পড়ুয়ারা বিক্ষোভে বসেছিল। তাঁদের মধ্যেই একজন সুদীপ্তাও। তাকে এক সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে কেন বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তারা? উত্তরে সুদীপ্তা বলে, “সাতটি মেয়েকে ইংরেজিতে ফেল করানো হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে লেটার পেয়েছি আমরা। সেক্ষেত্রে ইংরেজিতে ফেল করার বিষয়টি কিছুতেই মানতে পারছি না”। পাশ করানোর দাবী জানায় সে।

এরপরই সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে Umbrella বানান কী? প্রথমে না দিতে চাইলেও, পরে সুদীপ্তা বানান বলে Amrela। আর সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই চরম ট্রোলিংয়ের শিকার হয় ওই পড়ুয়া। এই ভিডিও থেকে নানান রিমিক্স গান ও নানান মিম বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

তবে এই ট্রোলিংয়ের প্রতিবাদে কেউ কেউ মুখও খুলেছিলেন। তাঁদের দাবী, এভাবে একটা ভিডিও থেকে কারোর মেধা যাচাই করা অসম্ভব। প্রশ্ন উঠেছিল যে একটি বানানই কি প্রমাণ করে মেয়েটির ইংরেজি ভাষার দৌড় প্রমাণ করে? এহেন পরিস্থিতিতে এবার সুদীপ্তার বাবা জানালেন, “মেয়ে ভালো নেই”।

এক সংবাদমাধ্যমে সুদীপ্তার বাবা বলেন, “মেয়ে দু’তিন বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। আমরা চোখে চোখে রাখছি বলে এখনও কোনও অঘটন ঘটেনি। আমরা বাড়ি থেকে বার হতে পারছি না। যেসব কথা বলছে তা সহ্য করা যাচ্ছে না। যাঁরা এসব রটাচ্ছে তাঁদের অনুরোধ করছি এই রকম করবেন না।” কাছের মানুষরাও পাশে নেই বলে জানান তিনি। সুদীপ্তার বাবার কথায়, “নিজের আত্মীয় প্রতিবেশীরা খারাপ মন্তব্য করছে। বলছে পড়াশোনা শেখাতে পারেননি। আমি দেখেছি ইউটিউবে ওই ভিডিয়োটা। ওকে বলেছে ‘আমবেলা’ বানান করতে। তাই ও ওই বানান করেছে। ওকে যদি বলত ‘আমব্রেলা’ বানান করতে তাহলে হয়তো ঠিক বলত। যেভাবে প্রশ্ন করা হয়েছে সেভাবে উত্তর দিয়েছে। আমার মনে হয় ও ঠিক উত্তর দিয়েছিল”।

এই গোটা বিতর্কে সুদীপ্তার পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন নদিয়া জেলার মতুয়া মহাসংঘ। সংঘের সম্পাদক জয় মিত্র বলেন, “ওর পাশে দাঁড়াতে হবে। সাংবাদিক ভুল প্রশ্ন করেছিলেন। ওকে নিয়ে যেভাবে ট্রোল করছে তাতে ওর বেঁচে থাকায় দুর্বিষহ হয়ে ওঠছে। ও বাঁচবে কিনা জানি না। ও অসুস্থ। সমাজের কিছু বখাটে , অসৎ লোক ওর জীবন তছনছ করছে। নদিয়া জেলার মতুয়া মহাসংঘের পক্ষ থেকে দ্রুত সুস্ততা কামনা করি। যারা এসব ট্রোল করছে বা রিমিক্স তৈরি করছে খুব শীঘ্রই সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ জানাব”।

Related Articles

Back to top button