আন্তর্জাতিক

ন্যক্কারজনক! পাকিস্তানের নাবালিকা ধ’র্ষি’তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই বাবা-দাদাদের লালসার শিকার, চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলল প্রতিবেশী রাষ্ট্রে

পাকিস্তানে ধ’র্ষ’ণ, অপহরণ বা শিশু নির্যাতনের ঘটনা যে দিনদিন বাড়ছে, এমন রিপোর্ট আগেও মিলেছে। তবে এবারের এক গবেষণায় যে রিপোর্ট উঠে এল, তা যে শুধুমাত্র নিন্দনীয় তা নয়, ন্যক্কারজনক। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানে যে সমস্ত নাবালিকারা ধ’র্ষি’ত হন, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নিজের বাবা, দাদা বা কোনও পরিবারের সদস্যদেরই লালসার শিকার।

শুধুমাত্র নাবালিকাই নন, নাবালকদের উপরও নানান ধরণের নির্যাতন হয়ে থাকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে। আর এর বেশিরভাগই হয় পরিবারের সদস্যদের দ্বারাই। ‘সাহিল’ নামের এক এনজিও-র তরফে একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে ২০২১ সালে প্রায় ৩,৮৫২টি শিশু নির্যাতনের খবর মিলেছে পাকিস্তান থেকে। এই রিপোর্টের মধ্যে রয়েছে অপহরণ, শিশু যৌ’ন হেনস্থা, বাল্যবিবাহের নানান রিপোর্ট।

২০২০ সালের তুলনায় এই অভিযোগ আরও ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে ওই রিপোর্টে। নাবালক ও নাবালিকা উভয়ের ক্ষেত্রেই নানান অভিযোগ এসেছে। শিশু নির্যাতনের এই অভিযোগের মধ্যে ৫৪ শতাংশ নাবালিকা ও ৪৬ শতাংশ নাবালক। ৬ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেকার বয়সের মধ্যেই রয়েছে এই সব অভিযোগ।

এই রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশিরভাগ নির্যাতিতা নাবালিকাই নিজের পরিবারের কোনও সদস্যের দ্বারা যৌ’ন হেনস্থার শিকার। এর মধ্যে আবার বেশিরভাগ খবর এমন মিলেছে যেখানে বাবা যৌ’ন অত্যাচার করেছে নিজের মেয়ের উপর। জানা যাচ্ছে, এমন ধরণের আচরণ ছোটো থেকে সহ্য করতে করতে এখন শিশুরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে এই ধরণের আচরণ খুবই স্বাভাবিক। শুধু বাবা-ই নয়, দাদা, কাকা, ঠাকুরদা বা পরিবারের কোনও চেনা সদস্যদেরও যৌন লালসার শিকার হয়ে থাকেন পাকিস্তানের নানান নাবালিকারা।

এই এনজিও-র তরফে পেশ করা রিপোর্টে এও বলা হয়েছে যে পাকিস্তানে বেশিরভাগ যৌ’ন হেনস্থার বিরুদ্ধেই কোনও অভিযোগ জানানো হয় না। সেগুলি রিপোর্টেই থাকে না। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ নাবালিকা ধ’র্ষ’ণের কোনও অভিযোগ জানানো হয় না সে দেশে। আর এর জেরেই সমস্যা দিনদিন আরও বেড়ে চলেছে।

Related Articles

Back to top button