সব খবর সবার আগে।

আমেরিকার প্রাণ বাঁচাতে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন পাঠিয়েছিল ভারত! বিপদে টিকা না পাঠিয়ে হাত উল্টালো বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন

এক বছরের পার্থক্য। গতবছর করোনা প্রতিরোধে কিছুটা কাজ করেছিল ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন। তখন আমেরিকার শাসনে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের কাছে এই ওষুধ চেয়েছিলেন তিনি। নিষেধাজ্ঞা তুলে ‘বন্ধু’র দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। ঠিক একটা বছর পরের ছবিটা কিছুটা আলাদা। হঠাৎই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছে ভারত। ইতিমধ্যেই ভারতের শুরু হচ্ছে ১৮ বছর বয়সী থেকে শুরু করে সবার জন্য প্রতিষেধক দান। এই পরিমাণ প্রতিষেধক শুধুমাত্র দেশীয় প্রতিশোধক দিয়ে কুলোনো সম্ভব নয়। আর সেই জন্যই আমেরিকার সাহায্য চেয়েছিল ভারত। হাত উল্টোলেন বাইডেন।

দু’টি ঘটনার কেন্দ্রে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হাত থেকে দেশের মানুষকে যত তাড়াতাড়ি বার করে নিয়ে আসা যায়, সেই উদ্দেশ্য। একটি ক্ষেত্রে ছিল কোভিডের সম্ভাব্য ‘ওষুধ’ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। এই ক্ষেত্রে বিষয় কোভিড টিকা তৈরির কাঁচামাল।গত এপ্রিলে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ৫ কোটি ট্যাবলেট বিমানে চাপিয়ে আমেরিকায় পাঠিয়েছিল ভারত। হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন রফতানির নিষেধাজ্ঞা তড়িঘড়ি তুলে নিয়ে ভারত।আর এ বার ভারতের দরকার দেশে করোনা প্রতিষেধক তৈরির কাঁচামাল। সেটা আমেরিকাই দিতে পারে। তাই আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিল ভারত। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গোড়া থেকে ‘ভারতবন্ধু’ হিসাবে পরিচিত বাইডেন কোনও স্পষ্ট আশ্বাস এখনও পর্যন্ত দেননি। বরং তাঁর প্রশাসন টিকা তৈরির কাঁচামাল রফতানির উপর জারি করেছে নিষেধাজ্ঞা।

আরও পড়ুন-Covid-19: ভারতে অক্সিজেন সঙ্কট মোকাবিলায় পাশে দাঁড়ালো সৌদি! ৮০ মেট্রিক টন তরল অক্সিজেন আসছে দেশে 

আমেরিকার বিদেশসচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আমেরিকায় থাকা ভারতের রাষ্ট্রদূত তরণজিৎ সিংহ সান্ধুও এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন। জানা গিয়েছে, নয়াদিল্লিকে বাইডেন প্রশাসন জানিয়েছে, ভারতে টিকা তৈরির ক্ষেত্রে যাতে সমস্যা না হয় সে দিকে নজর দেবে। তবে প্রথমে আমেরিকার মানুষের চাহিদা মেটানো হবে। তার পরেই অতিরিক্ত কাঁচামাল রফতানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।কেন‌ও? প্রশ্নটা উঠছে এই কারণেই যেহেতু আমেরিকায় নির্বাচনী প্রচারের গোড়া থেকেই বার বার নিজেকে ‘ভারতবন্ধু’ হিসাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন বাইডেন ও কমলা হ্যারিস।ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে আমেরিকার নির্বাচনের যথেষ্ট জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন হ্যারিস। সেই সঙ্গে একের পর এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঠাঁই পেয়েছেন বাইডেন-হ্যারিসের মন্ত্রিসভায়। এর পরেও তা হলে কেন‌ও এমন আচরণ আমেরিকার?

কারণ জানা যাচ্ছে, আমেরিকায় যে গতিতে প্রতিষেধক তৈরীর কাজ চলছে তাতে  আমেরিকার প্রত্যেক নাগরিককে দিয়েও বেশ কিছু অতিরিক্ত থাকার কথা। তাহলে কেন‌ও আমেরিকার এই ধরনের আচরণ? এক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও কূটনীতিবিদদের কথায়, “আজ না হলে কাল ভারতকে টিকা তৈরির কাঁচামাল দেবে আমেরিকা। কিন্তু চাইলেই দেবে না। একটু ঝুলিয়ে রাখবে। বাইডেন, হ্যারিস চাইছেন মোদী সমস্যাটা নিয়ে একটু ভাবুন। উদ্বিগ্ন থাকুন। হিউস্টনে ট্রাম্পের হাত তুলে ধরে তো মোদীই বছর তিনেক আগে বলেছিলেন, ‘আব কি বার ট্রাম্প সরকার।’ দু’এক জন বাদে কোনও ডেমোক্র্যাটই সেই সময় হাজির থাকেননি ট্রাম্পের ‘হাউডি মোদী’ অনুষ্ঠানে। থাকেননি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিও। কমলা হ্যারিসই বা কী ভাবে ভুলতে পারেন, নিজেকে কৃষ্ণাঙ্গ ও দক্ষিণ এশীয় বলায় কী ভাবে মোদীর অনুগামীদের শ্লেষবিদ্ধ হতে হয়েছিল তাঁকে।”

ওই কূটনীতিকের বক্তব্য, “আমেরিকা চাইছে টিকা তৈরির কাঁচামাল পাওয়ার জন্য আমেরিকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত তরণজিৎ সিংহ সান্ধু ক্যাপিটল হিলকে সাধাসাধি করুন। সাধাসাধি করুন পেলোসিকেও। তা হলে শেষ পর্যন্ত দেওয়া হবে। আর দিলেই ঢাকঢোল পিটিয়ে তা ঘোষণাও করবে বাইডেন প্রশাসন।”

You might also like
Comments
Loading...