আন্তর্জাতিক

করোনায় মৃতদেহের স্তুপ জমেছে ইতালিতে, শেষক্রিয়া করতে আসতে হলো সেনাবাহিনীকে

করোনা ভাইরাসের জেরে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতালি। ইতালি সরকারের গাফিলতিতে এই মারণ ভাইরাস কেড়ে নিয়েছে কত প্রাণ। ইতালি এখন মৃতের সংখ্যার বিচারে চিনকেও পিছনে ফেলে এগিয়ে গেছে। হাসপাতালগুলিতে এত মরদেহ আসছে যে মর্গে পর্যন্ত রাখার জায়গা নেই। আর বিনা সুরক্ষা ও সাবধানতা অবলম্বন করলে সেই মরদেহগুলি থেকে ছড়াতে পারে ভাইরাসের জীবাণু। সেই আশঙ্কা থেকেই পরিস্থিতি সামলাতে নামানো হল সেনাকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতালির একটি শহরের ছবি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ছবিতে দেখা গিয়েছে রাস্তায় সারি বেঁধে চলেছে সেনার ট্রাক।এই ছবি ইতালিতে মিলানের নিকটবর্তী এই শহর, বেরগামোর। জানা গেছে, সেনার ট্রাকগুলিতে রয়েছে করোনা মহামারিতে মৃতদের দেহ। দেহগুলি শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেনার ট্রাকে করে।

ইতালিতে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৩৪০০-র বেশি। যে চিন সারা বিশ্ব ও ভারতকে এই ভাইরাস উপহার দিয়েছে, সেখানে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৩২০০। আর ইতালিতে তার থেকে আরো ২০০ বেশি। এখানেই শেষ নয় সেখানে নিত্যনতুন কেস আসছে। এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি। চিনে এই সংখ্যা ৮০ হাজারের বেশি।

দিল্লিতে আইটিবিপি-র কোয়ারেন্টিন সেন্টারে চিন থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা ভারতীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, চিনের উহান শহর এখন সম্পূর্ণভাবে সেনার নিয়ন্ত্রণে। কেননা, ভাইরাসের প্রকোপ এতটাই তীব্র যে পরিস্থিতি প্রশাসনের হাতের বাইরে চলে গেছে।

উল্লেখ্য, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট করোনাভাইরাস সংক্রমনকে যুদ্ধ বলে ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, জার্মানির চ্যান্সেলর একে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ-র তকমা দিয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেছিলেন যে, এখন করোনাভাইরাস এত দেশে ছড়িয়ে পড়েছে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এতগুলি দেশে ছড়িয়ে পড়েনি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ ভাইরাসে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।বর্তমান আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে চিন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি থেকে শুরু করে ভারত,পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যের ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইউরোপের ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও সুদূর পশ্চিমে আমেরিকা ও কানাডা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাসের প্রকোপ।

ভারতে এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২২৩। চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সেনা, বায়ুসেনা ও নৌসেনা পুরোপুরি প্রস্তুত। সেনা মানেসর, জয়সলমীর ছাড়াও যোধপুর, সুরতগড়, চেন্নাই, কলকাতা, সেকেন্দ্রাবাদ, উধমপুরে কোয়ারেন্টিন সেন্টার তৈরি করেছে। সেইসঙ্গে সামরিক হাসপাতালগুলিকে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য অ্যালার্টও করে দেওয়া হয়েছে। এই সংক্রমন রুখতে যথা সম্ভব চেস্টা করছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার।

Related Articles

Back to top button