সব খবর সবার আগে।

দু’মাস ধরে বেপাত্তা চীনের ধনকুবের জ্যাক মা! সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই কি গায়েব? পিছনে রয়েছে নিখোঁজের ইতিহাস

বিশ্বের বিশিষ্ট ধনকুবের তিনি। এক লহমায় তাঁকে এবং তাঁর সংস্থাকে চেনে বিশ্ববাসী।

বিগত দু’মাস ধরে কোনও খোঁজ মিলছে না চীনের বিশিষ্ট শিল্পপতি তথা আলিবাবা ও অ্যান্ট গ্রুপের কর্ণধার জ্যাক মা’র। কোথায় গেলেন তিনি? শিল্পপতি হলেও গোটা বিশ্বজুড়েই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে ডাক পড়ে জ্যাকের। তাঁর অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতার জনপ্রিয়তা রয়েছে সর্বস্তরে। আর সেই বক্তৃতা দিতে গিয়েই গত বছর সাংঘাইতে একটি অনুষ্ঠানে সুদখোর আর্থিক নিয়ন্ত্রক পাবলিক সেক্টরের ব্যাংকগুলির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, বিশ্ব ব্যাংকের বিভিন্ন নিয়মকে বয়স্কদের ক্লাব বলে কটাক্ষও করেছিলেন তিনি। তবে, শুধু সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি তিনি। বরং সরকারের কাছে আবেদনও করেন যাতে এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়।

কিন্তু তাঁর এই সমালোচনাকে ভালোভাবে নেয়নি জিনপিংয়ের প্রশাসন। অনেকেরই আশঙ্কা,

চীনের সরকারের সমালোচনা করাতেই রাষ্ট্রের কোপে পড়েছেন তিনি। তারপর থেকেই প্রকাশ্যে তাঁর দেখা মিলছে না। তবে, জ্যাকের খোঁজ না মিললেও তাঁর সংস্থাগুলি কিন্তু বহাল তবিয়তেই চলছে। তবে কি জিনপিং সরকার গৃহবন্দি করেছে জ্যাক মা কে? চীনের এক সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়েছে শেষ দু’মাস জ্যাক দেশের কোনও অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। এমনকী সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে তাঁর যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়ে যায়। চীনের বহু অনুষ্ঠানের পোস্টার থেকেও ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে জ্যাকের। কোথায় গেলেন তিনি? সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে গোটা বিশ্বের শিল্প মহল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জ্যাক মা’র সমালোচনাকে চীনের কমিউনিস্ট সরকাার ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে বলে মনে করতে থাকে। এরপরই জ্যাকের বিভিন্ন ব্যবসায় শুরু হয় রাষ্ট্রের তদন্ত। গত বছর নভেম্বরে জ্যাকের অ্যান্ট গ্রুপের ৩৭ বিলিয়ন ডলারের আইপিও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে চীন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জ্যাক মা-র অ্যান্ট গ্রুপের আইপিও নিষিদ্ধ করার আদেশ আসে সরাসরি প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের তরফ থেকে। ক্রিসমাসের আগেই সরকারের তরফে জানানো হয়, আলিবাবার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের বাইরে পা রাখতে পারবেন না জ্যাক মা। তার পর থেকেই ‘নিখোঁজ’ তিনি।

তবে চীনে উদ্যোগ পতিদের বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিখোঁজ হওয়া এই প্রথম নয়, এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে, চীনা ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারী গুও গুয়াংচং নিখোঁজ হয়ে যান।
এরপর, আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত চীনা অভিনেত্রী, ফ্যান বিংবিং ছিলেন আরেক উল্লেখযোগ্য নাম যিনি ২০১৮ সালে চার মাসের জন্য রহস্যজনকভাবে অদৃশ্য হয়ে যান। জুলাই ২০১৮ থেকে অক্টোবর ২০১৮ পর্যন্ত নিখোঁজ ছিলেন তিনি। পরে জানা গিয়েছিল কর ফাঁকি দেওয়ার মামলায় তাঁকে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ আটক করেছিল।
_taboola.push({mode:'thumbnails-a', container:'taboola-below-article', placement:'below-article', target_type: 'mix'}); window._taboola = window._taboola || []; _taboola.push({mode:'thumbnails-rr', container:'taboola-below-article-second', placement:'below-article-2nd', target_type: 'mix'});
You might also like
Comments
Loading...