আন্তর্জাতিক

শিশুদের ছেড়ে দাও, আমাকে মারো! সমরাস্ত্র সজ্জিত মায়ানমারের সেনার সামনে হাঁটু মুড়ে আর্জি সন্ন্যাসিনী’র

একটি ছবি ঝড় তুলেছে নেট মাধ্যমে। মায়ানমারের আধুনিক সমরাস্ত্র সজ্জিত সেনার সামনে দুই হাটু মুড়ে হাত ছড়িয়ে শিশুদের প্রাণ ভিক্ষা করছেন এক সন্ন্যাসিনী।

তাঁর কাতর আর্জি, ‘‘শিশুদের ছেড়ে দাও। তার বদলে আমাকে মারো।” সাদা পোশাকের ওই ক্যাথলিক নান, সিস্টার অ্যান রোজ নু তাং-এর এই ছবি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, মায়ানমারের সেনার নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ছবিটি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে প্রতিবাদী সন্ন্যাসিনী অ্যান জানান, শিশুদের উপর যাতে অত্যাচার না হয়, গুলি না চালায়, সেই জন্যই ওদের অনুরোধ করেছিলাম। বলেছিলাম, শিশুগুলোর বদলে ওরা যেন‌ও আমাকে হত্যা করে।

অ্যানের সঙ্গে ছিলেন আরও দুই সন্ন্যাসিনী‌ও। সোমবার মায়ানমারের মাইতকাইনা শহরে ওই সিস্টারের এই সাহসিকতা বৌদ্ধপ্রধান দেশটির তো বটেই, গোটা বিশ্বের প্রশংসা আদায় করে নিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১লা ফেব্রুয়ারি আচমকাই অভ্যুত্থান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক পথে নির্বাচন আং সান সু কি সরকারের পতন ঘটায় সামরিক জুন্টা। কর্তৃত্ব নেয় নিজেদের হাতে। তার পর থেকেই গণতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে প্রতিবাদে উত্তাল মায়ানমার। পাল্টা কড়া হাতে আন্দোলন দমন করছে সেনা প্রশাসন।

হিসেব বলছে এখনও পর্যন্ত সেনার গুলিতে ৬০ জনের বেশি মৃত্যু হয়েছে। কাঁদানে গ্যাস, জলকামান, রবার বুলেটের আঘাতেও অনেকে আহত হয়েছেন। সিস্টার অ্যান জানান, প্রতিবাদীদের তাড়া করেছিল সেনা। শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সেনার কাছে আর্জি জানান। কিন্তু তার পরেই গুলি চালাতে শুরু করে সেনা। ভয় পেয়ে শিশুরা সামনের দিকে ছুটে যায়। আতঙ্কিত সিস্টার প্রার্থনা করা ছাড়া কিছুই আর করতে পারেননি। তাঁর মনে হচ্ছিল, পৃথিবীটা যেন ভেঙে টুকরো হয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থলেই দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারিও সিস্টার অ্যান একইভাবে পুলিশের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেদিন থেকেই তিনি নিজেকে ‘মৃত’ বলে মনে করেন। তাঁর কথায়, “গোটা মায়ানমার কাঁদছে। এই অবস্থায় আমি হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না।”

Related Articles

Back to top button