সব খবর সবার আগে।

লজ্জা! মমতার রাজ্যে নিস্তার নেই অবলা শিশুদেরও, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ল ছোট্ট একটি প্রাণ

পেটে অসহ্য যন্ত্রণা, ছটফট করছিল ছোটো প্রাণটি, কিন্তু তবুও হাসপাতালের দোরে দোরে ঘুরে কোনও লাভ হল না । একের পর এক শহরের হাসপাতাল ফিরিয়ে দেইয় বাচ্চাটিকে। অবশেষে এসএসকেএমে ঠাঁই মিললেও শেষরক্ষা হল না। বিনা চিকিৎসাতেই প্রাণ হারাল শিশুটি।

ফের একবার শহরের হাসপাতালগুলির এক অমানবিক রূপ সামনে এল। বিনা চিকিৎসাতেই মারা গেল একটা ছোটো প্রাণ। শিশুটির না, তানভীর হোসেন। বয়স ৯ বছর। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুকে ও পিঠে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল তানভীর। সেই অবস্থায় তাকে নিয়ে একের পর এক হাসপাতালে ঘুরে বেড়ালেও কেউ ভর্তি নেয় না সেই শিশুকে।

প্রথমেই শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় ভাগীরথী নেওটিয়া হাসপাতালে। সেই সময় শিশুটির অবস্থা রীতিমতো সংকটজনক। যন্ত্রণায় প্রচণ্ড কাঁদছিল বাচ্চাটা। কিন্তু তা দেখেও তাকে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি ওই হাসপাতাল। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয় যে, হাসপাতালে বেড নেই।

এরপর শিশুটিকে নিয়ে তার মা-বাবা ছোটেন বেলভিউ ক্লিনিকে, সেখানেও অনেক অনুরোধ করলেও তাকে ভর্তি নেয়নি হাসপাতাল। এরপর একে একে সিএমআরআই ও পার্ক ক্লিনিকেও নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। কিন্তু সব জায়গাতেই বেড নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এইভাবে একের পর এক জায়গায় ছোটাছুটি করতে গিয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পরে বাচ্চাটি। তার অবস্থা আরও সংকটজনক হয়। পাঁচ-ছ’ঘণ্টা দৌড়াদৌড়ি করার পর শেষমেশ এসএসকেএম হাপাতালে তাকে ভর্তি নেয়। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয় না তানভীরকে।

পরিবারের অভিযোগ, শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটতে ছুটতেই তাদের বাচ্চার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ে। তার মায়ের অভিযোগ সময় নষ্ট না হলে হয়ত তানভীরকে বাঁচানো যেত।

এত কিছুর মধ্যে চিকিৎসা স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো নিয়ে আঙুল উঠেছে রাজ্য সরকারের দিকে। সে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী খোদ মুখ্যমন্ত্রী, সেই রাজ্যে চিকিৎসার এভাবে এক নিরীহ প্রাণের মৃত্যুকে ঘিরে উঠেছে অনেক প্রশ্ন। একের পর এক হাসপাতাল ঘুরলেও শিশুটির ওরকম সংকটজনক অবস্থাতেও কেন তাকে সব হাসপাতাল ফিরিয়ে দিল, এ নিয়ে রাজ্য সরকারকেই দোষী ঠাওরেছে ক্ষিপ্ত জনগন ও মৃত শিশুর পরিবার। তবে এই ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও হাসপাতাল বা রাজ্য সরকারকে মুখ খুলতে শোনা যায়নি।

You might also like
Comments
Loading...