কলকাতা

রাস্তার জমা জলে মরণফাঁদ! হরিদেবপুরে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যু ১২ বছরের নাবালকের, কার গাফিলতিতে ঘটল দুর্ঘটনা?

গত বছরেও এমন ঘটনা অনেক চোখে পড়েছে। একাধিক ঘটনার কথা শোনা গিয়েছে দমদম, খড়দহ, ব্যারাকপুর রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে। বৃষ্টির জন্য রাস্তায় জমা জলে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক মানুষ। আর এই বছরও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। বর্ষা নামতেই সেই একই ঘটনা রাজ্যে।

হরিদেবপুরে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যু হল এক ১২ বছরের কিশোরের। কার গাফিলতিতে এমন ঘটনা ঘটল তা জানতে তৎপর কলকাতা কর্পোরেশন। যে লাইটপোস্ট থেকে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে কিশোরের মৃত্যু হয়েছে, সেই লাইটপোস্টটি কার, তা জানতে আজ, সোমবার জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডাকা হয়েছে কলকাতা কর্পোরেশনের তরফে।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল, রবিবার সন্ধ্যায় হরিদেবপুরের হাফিজ মহম্মদ ইশাক রোডে। মৃত ওই কিশোরের নাম নীতীশ যাদব। সূত্রে খবর অনুযায়ী, এদিন সন্ধ্যেবেলা পুজোর প্রসাদ নিয়ে এক আত্মীয়র বাড়িতে যাচ্ছিল ওই কিশোর। রাস্তায় জমে থাকা জল পেরিয়েই যায় সে।  ওই জমা জলেই ছিল বৈদ্যুতিক তার। আর তাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় নীতীশ।

ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে যে এক কিশোর জমা জল পেরিয়ে যাচ্ছে। এক মহিলা বাড়ি থেকে দেখতে পান যে একটি ছেলে জলে পড়ে ছটপট করছে। তিনি ১০০ নম্বর ডায়াল করেন। পুলিশ ও সিইএসসি-এর কর্মীরা সেখানে পৌঁছন। কিন্তু ততক্ষণে কিশোরের শরীরে প্রাণ নেই।

এই ঘটনায় নীতীশের মা বলেন, “ওকে পড়তে পাঠিয়েছিলাম। রাস্তায় জল জমে গিয়েছে জানি না তো। কারেন্টে শক খেয়েছে। রোজ যায় পড়তে। আমাকে একজন বলছে ওখানে কার ছেলে পড়ে আছে। শুনেই তো আমার হয়ে গেছে। আমি বললাম, এক্ষুণি তো ছেলেটাকে পাঠালাম। ছুটে গেছি আমি। আমাকে তখন আর কেউ যেতে দিচ্ছে না। ওখানে সবাই ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় এক ঘণ্টা পর লাইট অফ করেছে। তারপর ওকে সরিয়েছে। আমি জানিও না ও মরে গেছে না বেঁচে আছে”।

নাবালকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর যায় এলাকার তৃণমূল কাউন্সিল রত্না শূরের কাছে। তিনি এই বিষয়ে বলেন, “একটি বাচ্চা পড়তে যাচ্ছিল। তখন একটি লাইট পোস্টে হাত দেয়। যদিও সেটি লাইট পোস্ট নয়, পুরানো টেলিফোনের পোস্ট। সেই পোস্টেই বিদ্যুত বইছিল। জল কারেন্ট বইছিল না। যখন ঘটনা ঘটে তখন টাইমার ছিল না। লাইন দেওয়া হয়নি। সিইএসসি-র ইলেকট্রিকের লাইন ছিল না”।  

আজ, বিকেল চারটের সময় কলকাতা কর্পোরেশনের তরফে ডাকা হয়েছে বৈঠক। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে ডিজি ড্রেনেজ, কেইআইপি-র ডিজি ও ডিজি লাইটিংদের। সেখানেই জানতে চাওয়া হবে এই ঘটনায় আসলে গাফিলতি কার? কারণ সিইএসসি কর্মীর দাবী যে সেটি বিএসএনএল-এর পোস্ট। তাতেই লাইন টেনে পুরসভা আলো লাগিয়েছে।

Related Articles

Back to top button