কলকাতা

ফের অটোচালকদের দাদাগিরি নিউটাউনে, ‘মান-সম্মান ডুবিয়ে দেব’ বলে হুমকি অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে, ধাক্কাধাক্কি, মারধর স্বামীকেও

নিউটাউনে ফের দেখা গেল অটোচালকদের দাদাগিরি। গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও তাঁর স্বামীর সঙ্গে বচসা অটোচালকের। হেনস্থার অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটে গতকাল, সোমবার রাতে। জানা গিয়েছে, এদিন ওই দম্পতি সল্টলেক থেকে নিউটাউনে ফিরছিলেন। সাপুরজির কাছে তাদের গাড়িটি দাঁড়াতেই বাধা দেন এক অটোচালক। এরপরই শুরু হয় ঝামেলা।

জানা গিয়েছে, সাপুরজির কাছে ওই দম্পতির গাড়ি দাঁড় করানো ছিল। গাড়ির মালিক গাড়ি থেকে নেমে দোকানে গিয়েছিলেন। সেই সময় গাড়িতে ছিলেন স্ত্রী ও গাড়িচালক। সেই সময় পিছনে একটি ট্রাক আসে। ট্রাকচালক গাড়িটি সরাতে বললে মহিলা জানান যে তাঁর স্বামী এলেই তারা বেরিয়ে যাবেন। তিনি যেন একটি অপেক্ষা করেন।

সূত্রের খবর, ট্রাক চালক তা মেনেও নেন। কিন্তু এই সময় এক অটোচালক এসে ঝামেলা শুরু করেন। বাড়ে কথা কাটাকাটি। মহিলার স্বামী এলে বচসা বাড়ে। এমনকি, অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে দম্পতির দিকে তেড়ে আসেন স্থানীয় কিছু দোকানিও। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় টেকনোসিটি থানার পুলিশ।

স্মরণিকা রায় নামে ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলা জানান, “১০-১৫ জন ওকে (স্বামীকে) এসে ঘিরে ধরে। আমি সামনে ছিলাম। আমাকেও ধাক্কাধাক্কি করে। একজন মহিলা ছিলেন। উনি আমাকে হুমকি দেন মারবেন। এমনকী মান সম্মান ডুবিয়ে দেবেন বলেও চিৎকার করে হুমকি দিচ্ছিলেন। ওই মহিলার নামে আমি অভিযোগ জানাব। একইসঙ্গে একজন অটোচালকও অকারণে এই ঘটনায় যুক্ত হয়ে ঝামেলা করলেন। তাঁর এ বিষয়ে ঢোকার কোনও প্রয়োজনই ছিল না। অথচ আমি গাড়ির ভিতর যখন বসে, বলছেন গাড়ি ভাঙচুর করবেন”।

এই ঘটনার বিষয়ে স্মরণিকার স্বামী সদানন্দ রায় বলেন, “পার্কিং নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়। আমাকে বলে গাড়ি সরাতে। এদিকে তুমুল চেঁচামেচি করছিলেন এক অটোচালক। আমি তাঁকে বলি, আপনি কেন চিৎকার করছেন? ততক্ষণে আরও কয়েকজন চলে আসেন। হুমকি দিচ্ছেন মেরে দেবেন। একজন সেই ঝামেলায় মদত দিচ্ছিলেন। হঠাৎই গায়ে হাত তুলল। আমার স্ত্রী বেরিয়ে এসেছে, ওর গায়েও এক মহিলা হাত দেন। আমি তখন বলি, মনুষ্যত্ব কি চলে গেল? আমাকে মারছ, কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের গায়ে কীভাবে হাত দিলে? তখন ওই মহিলা সরে যান”। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।

Related Articles

Back to top button