সব খবর সবার আগে।

রাতের তিলোত্তমায় পুলিশকে কষিয়ে বসালেন এক চড়। গালিগালাজ হজম করে অর্ধনগ্ন-মদ্যপ তরুণীকে বাগে আনতে রীতিমতো নাকানিচোবানি কলকাতা পুলিশের।

বর্তমান সময় বড়‌ই বিরুপ। করোনা আবহে মানুষের সাধারণ জীবন বিপর্যস্ত। আর তাই একটু আনন্দ করতে ময়দান চত্বরে এক পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে মদ্যপান করেন বছর আঠাশের এক তরুণী। ‘পান’টা বোধহয় একটু বেশি হয়ে গেছিল সামলাতে পারেননি। আর তাতেই বিপত্তি।

মঙ্গলবার গভীর রাত। জনমানবহীন কলকাতা। রেড রোড, মেয়ো রোড, ডাফরিন রোড জুড়ে তখন নিয়ন আলোয় মাখামাখি। এমন‌ই এক মায়াবী পরিবেশ হঠাৎ উত্তাল হয়ে উঠল অর্ধনগ্ন-মদ্যপ এক তরুণীর আচমকা তাণ্ডবে। আর তাঁকে বাগে আনতে রীতিমত নাকানিচোবানি খেলো কলকাতা পুলিশ। ওই তরুণীর কাছ থেকে গালিগালাজ তো হজম করতেই হয়, সেই সঙ্গে সপাটে উড়ে আসা এক থাপ্পরও খেতে হয়েছে এক পুলিশকর্মীকে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এত রাতে ওই মহিলা এলেন কোত্থেকে? আসল ঘটনাটাই বা কি?

পুলিশ সূত্রে খবর মঙ্গলবার সন্ধেয় ময়দান চত্বরে বছর ২৮- এর ওই তরুণী তাঁর এক পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে মদ্যপান করেন। জানা গিয়েছে তিনি পদ্মপুকুর রোডের বাসিন্দা। ঘটনার সূত্রপাত হয়, পুরুষ সঙ্গীটি চলে গেলে রাত বাড়তেই রেড রোডের কাছে অর্ধনগ্ন অবস্থায় তরুণী তাণ্ডব শুরু করে। পথচারীর খবরে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশ। কিন্তু ওই তরুণীকে উদ্ধার করতে গিয়ে কালঘাম ছুটে যায় তাঁদের।

পুলিশের তরফে মহিলার বিরুদ্ধে অভিযোগ, এলোপাথারি মারধর শুরু করে ওই তরুণী। বাপ-মা তুলেও গালিগালাজ করেন। রাস্তায় কোনও গাড়ি দেখলেই দিকভ্রান্তের মতো ছুটে যান ওই তরুণী।

ঘটনাস্থলে মহিলা পুলিশ না থাকায় বড়ই সমস্যায় পড়েন পুলিশকর্মীরা। তাঁকে বাগে আনতে পারছিলেন না কেউই। খবর যায় কন্ট্রোল রুমে। ঘণ্টা খানেকের মধ্যে এসে পৌঁছয় ছয়-ছ’টি পুলিসের গাড়ি। ঘটনাস্থলে আসেন মহিলা পুলিশ-সমেত উর্ধ্বতন কর্তারাও। শুরু হয় মহিলার সঙ্গে ধস্তাধস্তি। শেষমেশ গাড়িতে মদ্যপ তরুণীকে তুলতে পেরে হাঁফ ছাড়ে বাঁচেন পুলিস কর্মীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রাতেই তরুণীটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরুষ সঙ্গীর খোঁজ চালানো হয়। ওই তরুণীর ভাই জানিয়েছেন, রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর দিদিকে। ওই তরুণীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানান তাঁর ভাই।

You might also like
Leave a Comment