কলকাতা

রাতের শহরে পুলিশ সেজে গাড়িতে উঠে চুরি, উধাও ব্যাগ, ল্যাপটপ, গ্রেফতার অটো ইউনিয়নের নেতা

রাতের শহরে পুলিশি পোশাক পরা ব্যক্তি ও তার পরিবারকে সাহায্য করতে গিয়ে মহাবিপদে পড়লেন এক ব্যক্তি। পুলিশের পোশাক পরে যে ব্যক্তি গাড়িতে উঠল, সে আসলে চোর। টের পাওয়া গেল যখন সাহায্য করা ব্যক্তি পরে দেখলেন যে তাঁর গাড়ি থেকে উধাও তাঁর ল্যাপটপ ও জরুরি জিনিসপত্র রাখা একটি ব্যাগ।

এরপরই পুলিশের দ্বারস্থ হন অশোককুমার দে বিশ্বাস নামের ওই ব্যক্তি। ঘটনার তদন্তে নেমে মীরা দে, লক্ষ্মী দে ও বিশ্বনাথ দে নামের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় ল্যাপটপটিও। এমনকি, তার কাছ থেকে পুলিশের পোশাকও মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। গতকাল, শুক্রবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলে তাদের পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।

ঠিক কী ঘটেছিল?

অশোককুমার জানান গত সোমবার রাত ১০টা নাগাদ ইএম বাইপাস দিয়ে বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন তিনি। পরমা আইল্যান্ডের কাছে বছর ৪৯-এর বিশ্বনাথ পুলিশের পোশাক পরে তাঁর গাড়ি দাঁড় করায়। তাদের চিংড়িঘাটা মোড় পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। অশোককুমার জানান, ওই ব্যক্তির সঙ্গে এক যুবক ও তিনজন মহিলা ছিলেন।

গাড়িতে যেতে যেতে বিশ্বনাথ নিজেকে পুলিশ বলে দাবী করেন। বলেন যে স্ত্রী, পুত্র ও ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে ফিরছেন তিনি। তারা চিংড়িঘাটা নেমে গেলে বিমানবন্দর যান অশোককুমার। সেখান থেকে এক বন্ধুকে নিয়ে রবীন্দ্র সরোবরে নিজের বাড়িতে যান তিনি। তখনই তিনি দেখেন যে তাঁর ব্যাগটি উধাও।

সেই রাতেই রবীন্দ্র সরোবর থানায় ছোটেন তিনি। সেখান থেকে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় প্রগতি ময়দান থানায়। প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্তে শুরু করে। প্রথমে এই ঘটনার কিনারা করতে পারছিলেন না তদন্তকারীরা।

তবে অভিযোগকারী পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিকে যে সময়ে গাড়িতে তোলার কথা জানিয়েছিলেন, সেই সময়েরই সিসিটিভি ক্যামেরার একটি ফুটেজ পায় পুলিশ। সেই ফুটেজের সঙ্গে চিংড়িঘাটা মোড়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ মিলিয়ে দেখা হয়। সেখনেই তাদের গাড়িতে ওঠার এবং নামার সময়ের ছবি পাওয়া যায়এ।

এই বিষয়ে এক তদন্তকারী পুলিশকর্মী বলেন, ‘ফুটেজে দেখা যায়, চিংড়িঘাটা মোড়ে গাড়ি থেকে নেমে তিন জন ডান দিকে গিয়েছে এবং তিন জন বাঁ দিকে। ডান দিকে যারা গিয়েছে, তাদের মধ্যে এক জন হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে নামছে, এমন ছবি ধরা পড়ে। দেখা যায়, তাদের মধ্যেই এক মহিলা ছিল, যে পা টেনে টেনে হাঁটছিল। বাতের সমস্যা থাকলে অনেকে ওই ভাবে হাঁটে”।

এই সূত্র ধরেই তার ছবি নিয়ে চিংড়িঘাটা মোড়ের কাছে সুকান্তনগর এলাকায় খোঁজখবর শুরু করা হয়। পুলিশের দাবী, তাতেই মীরা নামে ওই মহিলার খোঁজ মেলে। তারই স্বামী হলেন বিশ্বনাথ। দু’জনকে গ্রেফতার করার পরে বিশ্বনাথের ভ্রাতৃবধূ লক্ষ্মীকেও ধরা হয়। ওই তিন জনকে জেরা করেই উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া সামগ্রী এবং পুলিশের পোশাক।

জানা গিয়েছে, বিশ্বনাথ আগে অটো চালাত। বেলেঘাটা অটো ইউনিয়নের একটি পদেও রয়েছেন তিনি। পুলিশের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ ছিল। কিন্তু সে কী করে পুলিশের পোশাক পেল, তা এখনও কিছু জানা যায়নি। পুলিশের কথায়, তদন্তের পরই তা বলা সম্ভব।

Related Articles

Back to top button