সব খবর সবার আগে।

হয়নি কোনো সুরাহা, আজ থেকে রাস্তায় নেমে আন্দোলন বাস মালিকদের

আগামীকাল অর্থাৎ বুধবার থেকে রাস্তায় নেমে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করতে চলেছে বাস সংগঠন, পশ্চিমবঙ্গ বাস এবং মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। বুধবার কলকাতার ৫ জায়গায় তারা তাদের বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে। তাদের দাবি, রাজ্য সরকার ভাড়া না বাড়ালেও কর ছাড় দিয়েছে কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে নানা সুযোগ সুবিধা থাকলেও তা প্রয়োগ করা হয়নি। গত ৫ মাস ধরে তাদের আর্থিক দুরবস্থার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সমানভাবে দায়ী।

কলকাতার ৫ জায়গা যথাক্রমে শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়, ধর্মতলা মেট্রো চ্যানেল, এক্সাইড মোড়, কালীঘাট ও গড়িয়াহাটে তারা এই আন্দোলন করবে এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরবে। পশ্চিমবঙ্গ বাস সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক প্রদীপ নারায়ণ ঘোষ জানাচ্ছেন, “রাজ্যপাল প্রধানমন্তী দপ্তর, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী সকলের কাছেই আমরা আমাদের দাবি জানিয়েছি যদিও কেউ কোনো সদুত্তর দিয়ে উঠতে পারেননি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তায় নামবো”। অন্যদিকে, ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বারবার বাসভাড়া বাড়ানোর আবেদন জানিয়েও কোনো সুরাহা না মেলায় আপাতত অভিনব প্রতিবাদ শুরু করেছেন বা সংগঠনের সদস্যরা। কি সেই অভিনব প্রতিবাদ?-জয়েন কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের বাস সোমবার করে পাম্পে গিয়ে জ্বালানি নিচ্ছে না।জয়েন কাউন্সিল অফ বা সিন্ডিকেটের তরফ থেকে বাকি সংগঠনের কাছেও আবেদন করা হচ্ছে তারা যেন এভাবেই প্রতিবাদ করেন।

উল্লেখ্য, ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে বিগত কয়েক মাস ধরেই বাসের ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বাস মালিকরা। বাস মালিকদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন প্রতিবাদে নেমে রাজ্যের কোন পেট্রলপাম থেকে ডিজেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের ক্রমাগত ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি। আমরা চাই সবাই এগিয়ে আসুক। বাকি সংগঠন একইরকমভাবে প্রতিবাদ জানাক”।

যে বাস গুলি কলকাতায় চলে তাতে সাধারণত ১৭০ লিটার তেলের ট্যাঙ্ক থাকে এবং জেলায় যে বাস গুলি চলে তাতে সাধারণত ২২০ লিটার তেল ট্যাঙ্ক থাকে। বাস সংগঠনের দাবি, সাধারণত সপ্তাহের প্রথম দিনেই ডিজেল ভরে নেয়া হয় পুরো ট্যঙ্কি জুড়ে। ১৭০ লিটার তেলে কলকাতায় তিনদিন বাস চলে এবং ২২০ লিটার তেলে জেলার বাসে ১ থেকে দেড় দিন চলে যায়। তেলের দাম ৭৭ টাকা/লিটার হলে ১৭০ লিটারের জন্য খরচ পড়ে ১৩,০৯০ টাকা। এবং ১৬,৯৪০ টাকা খরচ পড়ে ২২০ লিটার এর জন্য। ফলে একদিনে জ্বালানী বাবদ যে খরচ পড়ত সেটা আর হবে না।বিস্তর আলাপ-আলোচনা চালিয়ে ঠিক হয়েছে সপ্তাহের প্রথম দিনে জ্বালানি না ভরায় রাস্তায় কার্যত কম নামবে বেসরকারি বাস।

যুক্তি আর পাল্টা যুক্তির মধ্যেই জুলাই মাসে সমস্ত বেসরকারি সংগঠন রাস্তায় বাস নামিয়েছে সরকারের কথা অনুযায়ী। যদিও তার মধ্যে লকডাউন আর কন্টেনমেন্ট জোনের কারণে ফের শহরে কমতে শুরু করেছে বেসরকারি বাসের সংখ্যা সপ্তাহের প্রথম দিন ১২০০ -এর কাছাকাছি বেসরকারি বাস চলেছে। এত কম সংখ্যক বাসেও যাত্রী না হওয়ার কারণে বাস ষমালিকরা আগামী বেশ কয়দিন রাস্তায় আদৌ বাস নামানো যুক্তিযুক্ত হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছেন। বাস মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার কারণে রাস্তায় কম বেরোচ্ছেন যাত্রীরা।

আনলক অধ্যায় দ্বিতীয় ধাপ শুরু হওয়ার বিগত ১০ দিনের মধ্যে রাস্তায় বাসের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০০। সরকারের প্রায় ১৮০০ বাস রাস্তায় নামানো হয়। কিন্তু নতুন করে নকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর গত সপ্তাহে বেসরকারি সংখ্যা এক ধাক্কায় ১২০০ কাছাকাছি চলে আসে।এই অবস্থায় বা সংগঠনের নেতারা চালকও কন্ডাক্টরকে কোনভাবেই বাস চালানোর জন্য জোর দিতে পারছেন না। সবচেয়ে বেশি বাস কমেছে উত্তর কলকাতা ও শহরতলীর দিকে কারণ কনটেইনমেন্ট জোনের মধ্যে দিয়ে বাস চালানোর পক্ষপাতী নয় বা সংগঠনের প্রতিনিধিরা। শুধু বেসরকারি বাস-ই নয় সূত্রমতে সরকারি বাস লক্ষ্যণীয়ভাবে কম চলছে। জানা যাচ্ছে সরকারি বাসেও প্রয়োজন মতো যাত্রী হচ্ছে না। যে কারণে শহীদ মিনার বাস স্ট্যান্ড ময়দান ট্রাম লাইন বা ইডেন গার্ডেনে সামনের মাঠে বহু সরকারি বাস লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এই ঘটনায় সরকারি আধিকারিকদের ব্যাখ্যা, যাত্রী নাহলে ডিজেল পুড়িয়ে কি লাভ ? জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বার সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় এর দাবি, “অনেক চালক চাবি আমাদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে গেছে তারা ভয় পাচ্ছেন যদি তাদের করোনা হয়”। এই দাবীর সাথে সহমত জানিয়ে মিনিবাস সমন্বয় সমিতির নেতা রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “ভয় তো একটা আছেই অনেকেই আবার বাস রেখে দিয়ে চলে গেছেন বাস মালিকরা তা জানেনা”।

বারাসাত থেকে হাওড়া, ব্যারাকপুর থেকে কলকাতা বা হাবরা থেকে ধর্মতলা রুটে যেসব বাস চলে সেই সব জায়গায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহতার কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে আবারও কলকাতায় বাস কমতে শুরু করেছে, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কেউই বাস চালাতে চাইছেন না। তবে অন্যদিকে, এবার কলকাতার রাস্তায় আন্দোলনে নামছেন বাস মালিকরা কেন্দ্রের বিরুদ্ধেই।

প্রতিবেদনটি লিখেছেন : অন্তরা ঘোষ 

You might also like
Leave a Comment