কলকাতা

‘২৭৩ জনকে বাড়তি ১ নম্বর দেওয়া নিউটনের আপেলের মতো ব্যাপার হয়ে গেল তো’, টেট নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রিপোর্ট তলব আদালতের

প্রাইমারি টেট নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। এই তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট তলব করা হল কলকাতা হাইকোর্টের তরফে। এই দুর্নীতির মামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

আজ, বৃহস্পতিবার বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চ জানায় যে মঙ্গলবারের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট দিতে হবে। শুধু তাই-ই নয়, লক্ষাধিক চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে ২৭৩ জনকে বাড়তি নম্বর দেওয়া নিয়েও এদিন সন্দেহ প্রকাশ করে আদালত।

আজ, বৃহস্পতিবারের শুনানিতে বিচারপতি সুব্রত তালুকদার বলেন, “এখানে ব্যাপারটা অনেকটা নিউটনের আপেলের মত। গাছের নীচে বসেছিলেন, হঠাৎ একটা আপেল এসে পড়ল। হঠাৎ করে কিছু চাকরিপ্রার্থী বাড়তি এক নম্বর করে পেয়ে গেলেন”। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথিও যুক্ত করতে হবে। 

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় রাজ্য সরকার। ২০১৫ সালে টেট পরীক্ষা হয় ও ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয় মেধাতালিকা। এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় মেধাতালিকা। সেই মেধাতালিকাতেই বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর জেরে ২৬৯ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেয় আদালত।

অভিযোগকারীদের দাবী ছিল, উপযুক্ত নম্বর না পেয়েই অনেকের নাম উঠেছিল তালিকায়। এই মামলার প্রেক্ষিতেই এই শিক্ষকদের বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এর পাশাপাশি হাইকোর্টের নজরদারিতে এই মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই।

প্রাথমিক টেট মামলায় সিবিআই তদন্তের এবং মানিক ভট্টাচার্যকে পদ থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্টের একক বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই ডিভিশন বেঞ্চে মামলা হয়। এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী শুক্রবার।

Related Articles

Back to top button