কলকাতা

‘মগের মুলুক নাকি, কার সুপারিশে চাকরি পেয়েছিলেন, কোনও বিধায়কের’? হাইকোর্টে তুমুল ভর্ৎসনার মুখে শিক্ষক

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে এখন রাজ্যে বিতর্কের অন্ত নেই। এই মামলায় নাম জড়িয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর। ইতিমধ্যেই দুজনেই একাধিকবার সিবিআই দফতরে হাজিরা দিয়েছেন। বেনিয়মের অভিযোগে চাকরি গিয়েছে পরেশ-কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর।

এমন আবহে এবার আজ, বুধবার আংশিক সময়ের এক শিক্ষকের মামলার শুনানি ছিল। এই শুনানিতে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ওই শিক্ষককে ভর্ৎসনা করে বলেন, “এটা কি মগের মুলুক? আপনাদের মতো লোকের জন্য ন’বছর স্থায়ী পদে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। দুর্ভাগ্যজনক”।

ওই শিক্ষক অভিযোগ করেন যে তাঁকে অন্যায় ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতেই বিচারপতির প্রশ্ন, “কার সুপারিশে চাকরি পেয়েছিলেন, স্থানীয় বিধায়ক”? এই মামলাটি খারিজ করে দেন বিচারপতি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের মে মাস থেকে ২০০৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নদিয়ার গয়েশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলার আংশিক সময়ের শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন নাসিরুদ্দিন শেখ। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, তাঁকে অন্যায় ভাবে শিক্ষকপদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন নাসিরুদ্দিন।

তবে রাজ্য শিক্ষা দফতর জানায় যে নাসিরুদ্দিন যে পদে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন, তা স্থায়ী পদ নয়। কিছু সময়ের জন্য অস্থায়ী পদে নিয়োগ করা হয়েছিল তাঁকে। স্কুলে যোগ দেওয়ার সময় তাঁকে কোনও নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়নি বলে জানানো হয় শিক্ষা দফতরের তরফে।

সূত্রের খবর, পরিচালন কমিটির সুপারিশ মেনেই শিক্ষকের চাকরি দেওয়া হয়েছিল নাসিরুদ্দিনকে। অনেক সময় স্থায়ী পদে শিক্ষক নিয়োগ করা সম্ভব না হলে, এমন অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছিল। নাসিরুদ্দিন যখন স্কুলে যোগ দেন, সেই সময় স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে এটা অস্থায়ী পদ। কেউ এটাকে স্থায়ী চাকরি বলে ধরে নিতে পারে না। সব জানার পরই শিক্ষকের এই মামলাটি খারিজ করে দেয় আদালত।

Related Articles

Back to top button