কলকাতা

‘সার্কাস অনেকের কাছেই নস্টালজিয়া’, বাঙালির আবেগকে বাঁচিয়ে রাখতে করোনা পরিস্থিতিতে বিধিনিষেধ মেনে বসল সার্কাস

করোনা পরিস্থিতির কারণে বিগত দু’বছর ধরে সার্কাস বসেনি। এবছরও রয়েছে করোনার বাড়বাড়ন্ত। জারি রয়েছে বিধিনিষেধ। তবে রাজ্য সরকার কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে। সেরকমই এবছর মিলেছে সার্কাসের অনুমতিও।

এই অনুমতি পাওয়ার পরই আর কাল বিলম্ব না করে কলকাতার সিঁথি ময়দানে সার্কাসের তাঁবু পড়েছে। তবে দর্শক সেভাবে হচ্ছে না। তাই কলাকুশলীদের টাকা কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে বেশ চিন্তায় সার্কাস কর্তৃপক্ষ।

করোনা পরিস্থিতিতে যে ভিড় হবে না, তা তো একরকম জানাই। প্রতিদিন রাজ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। দৈনিক সংক্রমণের গণ্ডি ছাড়িয়েছে ২০ হাজার। এর ফলে মানুষ জন্য রাস্তায় কম বেরোচ্ছেন। এবছর সার্কাসে যে দর্শক হবে না সে কথা অবশ্য জানা ছিল সার্কাস কর্তৃপক্ষের।

দর্শক না হলে যে টিকিটও বিক্রি কম হবে, এই বিষয়টিও তাদের অজানা ছিল না। কিন্তু লাভের চেয়ে বাঙালির আবেগ তাদের কাছে বড় বিষয়। সার্কাস অনেকের কাছেই ছোটবেলাকার স্মৃতি। সেই আবেগকে তাজা করতে এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতেই এবছর অনুমতি পাওয়ার পরই সার্কাস বসেছে সিঁথি ময়দানে।

এই সার্কাসে প্রায় সাড়ে তিন হাজার দর্শক বসার আসনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন মেরেকেটে তিন-চারশো দর্শকও হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে।

এই বিষয়ে অজন্তা সার্কাসের ম্যানেজার মাইকেল কিশোর বলেন, “এখানে সার্কাসের বিভিন্ন শো এর জন্য মোট ৬০ জন আর্টিস্ট রয়েছেন। সার্কাস করাটাই কলাকুশলীদের দীর্ঘদিনের পেশা। তবে করোনার কারণে গত দু’বছর ধরে সার্কাস বন্ধ থাকায় অনেকেই বিভিন্ন পেশায় চলে গিয়েছিলেন। কেউ রাজমিস্ত্রি আবার কেউ কুলির কাজ করছিলেন। তবে সার্কাসের জন্য তাদের ডাক দিতেই আবার তারা ছুটে চলে এসেছেন”।

তার কথায়, “সার্কাস অনেকের কাছেই নস্টালজিয়া, ছোটবেলার স্মৃতি। আমরা বাঙালির সেই আবেগকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়”।

উল্লেখ্য, সার্কাস দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে কলাকুশলীদের শো করতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। এই কারণে হুগলীর পান্ডুয়ায় তাদের অনুশীলন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সিঁথির এই ময়দানে সার্কাস বসে। করোনা পরিস্থিতির জেরে সার্কাসে করোনা বিধিনিষেধ মেনে চলা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাও হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

Related Articles

Back to top button