কলকাতা

সামাজিক দুরত্বের নির্দেশ অমান্য করেই ৩০ জন মিলে মৃতদেহ সৎকার

করোনা সংক্রমনের ভয়ে ত্রস্ত ভারত। হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণের সংখ‍্যা, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। দ্বিতীয় দফায় চলছে লকডাউন। বারবার করে মানতে বলা হচ্ছে সোশ্যাল ডিসট‍্যান্সিং বা সামাজিক দূরত্ব। সাতজনের বেশি এক জায়গায় থাকার ওপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। অত‍্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বেরোনো যেখানে অপরাধ সেখানে শহরের রাজপথে ধরা পড়ল এক অন‍্য ছবি। ত্রিশ জন মিলে একটি ছোট ম‍্যাটাডরে গাদাগাদি করে চলছেন একটি মৃতদেহ সৎকার করতে। কার্যত উল্লাস করেই। তপসিয়ার দিক থেকে আসছিল ম‍্যাটাডর গাড়িটি। বাইপাসের কাছে এই গাড়িটি আটকায় কলকাতা পুলিশ। এরপরেই পুলিশের সঙ্গে প্রায় বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তারা। গাড়িতে থাকা সবার বক্তব্য যে গাড়িটিতে ছিল জারিনা খাতুন নামে এক মহিলার মৃতদেহ। তাঁর দেহ সৎকারের জন‍্য‌ই ত্রিশ জন মিলে র‌ওনা হয়েছিলেন। প্রত‍্যেকের‌ই বাড়ি কলকাতার তপসিয়া এলাকায়।

গতমাসে এইভাবেই সরকারের নির্দেশ অমান্য করে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারখাজে চলেছিল হাজার হাজার লোকের সমাবেশ। শুধু দেশের নয় বিদেশ থেকে লোকেরাও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেই অনুষ্ঠানে উপস্হিত ছিল করোনা সংক্রামিত মানুষেরাও। ফলে তাদের থেকে হু হু করে সংক্রমন ছড়ায়। বর্তমানে নিজামুদ্দিনের এই জমায়েত ‘করোনার আঁতুরঘর’ হয়ে উঠেছে।

তারপরেও আবার সরকারের নির্দেশ অমান্য করে চলছে মৃতদেহ সৎকারের কাজ। উপরন্তু পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময় মহম্মদ ইমরান নামে একজন আবার ব‍্যস্ত হয়ে পড়েন সেই ঘটনার ভিডিও করতে কারণ তার হয়তো মনে হয়েছে যে পুলিশ বেশি বাড়াবাড়ি করেছে। পুলিশ তাঁকে ম‍্যাটাডোর থেকে নামিয়ে প্রশ্ন করেন যে এই অবস্থায় যেখানে সাত জনের বেশি একসাথে বাইরে যাওয়া বারণ সেখানে তারা এতজন ঠাসাঠাসি করে যাচ্ছেন কেন? তিনি পুলিশকে জানান যে তারা নাকি জানতেনই না  যে এত জন মিলে রাস্তায় বেরোনো বারন। যেখানে বারবার রাজ‍্য-কেন্দ্র, পুলিশ-প্রশাসন সব স্তরের মানুষ মিলে সচেতনতা তৈরি করতে চাইছেন। জনে জনে মানুষকে সোশ্যাল ডিসট‍্যান্সিং-এর উপকারিতা বোঝাচ্ছেন সেখানে কীসের এই উদাসীনতা? কবে সচেতন হবে সমাজ?

Related Articles

Back to top button