সব খবর সবার আগে।

CoronaVirus: করোনায় প্রথম মৃতের সহকর্মী এনআরএসের আইসোলেশনে ভর্তি, লালারসের নমুনা গেল ল্যাবে

রাজ্য তথা শহরের বুকে প্রথম মৃত্যু কাঁপিয়ে দিয়েছে মানুষজনকে। এবার সেই মৃতব্যক্তির সহকর্মী ভর্তি হলেন এনআরএসের আইসোলেশন ওয়ার্ডে। জানা গেছে গত সোমবার তিনিও জ্বর সর্দি এইসব উপস্বর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর তাঁকে আইসোলেশনে রাখা হয়। গতকাল সকাল থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিয়েছে। করোনা-পরীক্ষার জন্য তাঁর লালারসের নমুনা পাঠানো হয়েছে ল্যাবে।

সূত্রের খবর, দমদমেরই বাসিন্দা এই অসুস্থ ব্যক্তি। এছাড়া আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মৃত প্রৌঢ়ের সঙ্গে একই অফিসে কাজ করতেন, এমনকি বসতেন পাশের টেবিলেই। ফেয়ারলি প্লেসে রেলের দফতরে কাজ করতেন তাঁরা। সহকর্মীর অসুস্থতার খবর হঠাৎই আশঙ্কা বাড়িয়েছে একধাপ। যদিও সহকর্মীর করোনা-পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না তবু সন্দেহটা রয়েই যায়।

চিকিৎসকরা বারবারই বলছেন, সামাজিক সংস্পর্শে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলেই দেশে করোনার তীব্রতা স্টেজ থ্রি-তে পৌঁছে যাবে। যা আটকানো একপ্রকার অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। এখনও পর্যন্ত কলকাতায় যতজন আক্রান্তকে পাওয়া গেছে তাঁরা সকলেই কোনও না কোনও ভাবে বিদেশে গেছিলেন বা বিদেশ থেকে ফেরা কারও সঙ্গে মেলামেশা করেছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু তা না করেও যদি কেউ আক্রান্ত হন, তবে তা স্টেজ থ্রি-এর প্রথম ধাপ হবে। সেটা রুখতেই সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

সেই কারণেই করোনা-আক্রান্তরা গত কয়েক দিনে কাদের সংস্পর্শে এসেছেন তা খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। অনেককে গৃহবন্দি থাকতে বলা হয়েছে। রাজারহাটের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারেও রাখা হয়েছে কয়েক জনকে। বালিগঞ্জের যে আরও এক তরুণের দেহে করোনা-সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তাঁর বাবা, মা ও পরিচারিকাও আক্রান্ত হয়েছেন ইতিমধ্যেই। এর পরেই সেই পরিচারিকার পরিবারেরও সকলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে। এবার দমদমের করোনায় মৃত ব্যক্তির সহকর্মীও সন্দেহের তালিকায় এসে গেলেন।

প্রশ্ন এখন একটাই, সামাজিক সংক্রমণকে কি রুখে দেওয়া যাবে? নাকি এত কড়াকড়ির মধ্যেও করোনা ভাইরাস নিজের বিস্তারের পথ ঠিক খুঁজে নেবে। রিপোর্ট এলে অনেকটাই স্পষ্ট হবে কলকাতার তথা রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তার ভয়াবহতা।

You might also like
Leave a Comment