কলকাতা

বিদেশ থেকে ফিরেই পুরসভার দপ্তরে কর মূল্যায়ন দপ্তরের প্রাক্তন অফিসার

লন্ডন ফেরত দুই যুবকের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমনে যেখানে চিন্তিত রাজ্য প্রশাসন, সেখানে আতঙ্ক একধাপ আরো বেড়ে গেল। সদ্য আমেরিকা থেকে ফিরেছেন কলকাতা পুরসভার এক প্রাক্তন অফিসার। পুরসভার কর মূল্যায়ন দফতরের ওই প্রাক্তন অফিসার শুক্রবার দিন লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিতে পেনশন সেলে গিয়েছিলেন এবং ওই বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। তিনি লাইফ সার্টিফিকেট দিতে দেরির কারণ জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি কয়েক মাস আমেরিকায় ছেলের কাছে ছিলেন। গত ১২ মার্চ কলকাতায় ফিরেছেন। তা শুনেই কর্মীদের মুখে আতঙ্কের ছাপ ফুটে ওঠে। হইচই পরে যায় সেখানে। এই সুযোগে ওই ব্যক্তি পুরসভা থেকে চলো যান।

তাঁর শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে কি না, সেই জল্পনা দিনভর চলে পুরসভার অন্দরে। খবর পাঠানো হয় পুর কমিশনার থেকে পদস্থ অফিসারকে। পরে পুরসভার এক অফিসার জানান, বিষয়টি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে জানানো হয়েছে।

শহর জুড়ে করোনার প্রভাব মারাত্মকভাবে বাড়ছে। কিন্তু সেইভাবে সচেতনতা বাড়ছে না। বিশেষত ইউরোপ, আমেরিকা, ইতালি থেকে আসা লোকজনকে নিয়ে যাতে সকলে সতর্ক থাকেন, সেই পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর। বাধ্যতামূলক ভাবে সকল বিদেশি ফেরতকে ১৪ দিন গৃহ-পর্যবেক্ষণে থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

পুরসভা সূত্রের খবর, প্রাক্তন ওই অফিসার এ দিন দুপুরে পুরসভার পেনশন দফতরে আসেন। লিখিত আবেদনে দেখা যায়, তাঁর বাড়ি বারাসতে। তাঁর লাইফ সার্টিফিকেট জমাও নেন সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মী। পরে ওই প্রবীণের সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার দেরীর কারণ জানার পর তখন মাথায় হাত পড়ে পুরকর্মীদের। তার কাছে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত পরীক্ষার খবর জানতে চাইলে তিনি জানান, তেমন কোনও পরীক্ষা করাননি তিনি। এর পরেই হইচই বাড়ে পুরসভায়।

পরে পুরো বিষয়টি রেকর্ড করা হয় পুরসভার নথিতে। বিকেলে স্বাস্থ্য দফতরের এক অফিসারকে পুরো ঘটনা জানানো হয়। এমনকি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বারাসতে ওই প্রবীণের ঠিকানায় গিয়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে।

এখনও এই বিষয়ে সবিস্তারে জানা যায়নি। চিন্তায় পড়েছে পুরসভার পেনশন দফতরের কর্মীরা। কারণ, কর্মীরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলেছেন, হাতে হাতে সার্টিফিকেট জমা নিয়েছেন। এর ফলে সংক্রমণের সম্ভবনা থেকেই যাচ্ছে। তাই বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে পুর কর্তাদেরও।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button