সব খবর সবার আগে।

রাতপথে শহরের নারীদের সুরক্ষা শিকেয়! মমতার নির্দেশে কলকাতা পুলিশের মহিলা বাহিনী এবার নিরাপত্তা দেবে শুধু মুখ্যমন্ত্রীকে

শহরে রাতের বেলা মহিলাদের নানানভাবে সুরক্ষা প্রদান করে বিভিন্ন মহল থেকে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ মহিলা বাহিনী ‘উইনার্স’। এবার এই বাহিনী নিরাপত্তা দেবে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে। নবান্নের তরফে এমনটাই নির্দেশ মিলেছে বলে জানানো হয়েছে কলকাতা পুলিশের তরফে।

জানা গিয়েছে, কলকাতার যে এলাকা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যাবেন, সেখানকার নিরাপত্তার বন্দোবস্ত ও মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াও থাকবে এই মহিলা বাহিনী। এই কারণে আপাতত রাতে শহরের পথে মহিলাদের সুরক্ষার জন্য টহলদারি বন্ধ রাখা হয়েছে।

এই বিশেষ বাহিনীর প্রশিক্ষণ হয়েছে লালবাজারের গুন্ডা দমন শাখার মতো নজরদারি ও ধরপাকড় চালানোর জন্য। কিন্তু এবার প্রশ্ন উঠছে যে রাতের শহরে মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য যে বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়, তাদেরকে একজন ভিভিআইপিকে নিরাপত্তা দেওয়ার কাজে কেন লাগানো হল? তাহলে এবার রাতে মহিলাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে কারা?

এই বিষয়ে এই বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অপরাজিতা রাই বলেন, “এটা লালবাজারের সিদ্ধান্ত”। লালবাজারের যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্তার কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই বাহিনীর কাজে খুব খুশি। সেই কারণেই এই বাহিনীকে আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর পথের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে সমস্যার কিছু নেই। কলকাতা পুলিশের ‘শক্তি’ বাহিনী রয়েছে। যার সব সদস্যই মহিলা। এ ছাড়াও রয়েছে যে কোনও সশস্ত্র হামলার সঙ্গে লড়াইয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলা বাহিনী ওয়ারিয়র্স”।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ২৫শে আগস্ট থেকেই এই মহিলা বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার। আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই চলবে। এরপর ৬ই সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী শহরের বাইরে যাচ্ছেন। তিনি ফিরে আসার পর ফের এই দায়িত্বে বহাল থাকবেন এই মহিলা বাহিনীর সদস্যরা।

আরও পড়ুন- মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখের আদলে হবে দুর্গা প্রতিমার মুখ, নতুন থিম ঘিরে হইচই কলকাতার ক্লাবে

পুলিশের এক কর্তার থেকে জানা গিয়েছে যে মূলত কালীঘাট থেকে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের পথে থাকছে ওই বাহিনী। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী যদি শহরের মধ্যেই কোথাও যান বা শহরের বাইরেও কোথাও যান, তাহলে শহরের সীমানা পর্যন্ত এই বাহিনী সঙ্গ দেবে মুখ্যমন্ত্রীর।

এই বাহিনীর এক সদস্য এই বিষয়ে বলেন, “মূলত হেস্টিংস থেকে আলিপুর হয়ে যাতায়াতের পথে প্রতিটা বিটে আমাদের দু’জনকে রাখা হচ্ছে। প্রতিদিন আলিপুর থানার ওসি আমাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন। বুধবারও তেমন ভাবেই ডিউটি ছিল। পানাগড় থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সে দিন ফিরতে সন্ধ্যা ছ’টা বেজে গিয়েছিল। আমরা পথেই ছিলাম। রাস্তায় কেমন লোক রয়েছেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্তটাই নজর করা ছিল আমাদের কাজ”।

এই মুহূর্তে ওই বাহিনীতে তিনজন অফিসারের পাশাপাশি রয়েছেন আরও ৩৩ জন মহিলা পুলিশকর্মী। গত তিন বছরে শহরের নানান জায়গায় হানা দিয়ে তিনশোরও বেশি লোককে গ্রেফতার করেছেন বাহিনীর সদস্যেরা। হায়দরাবাদে এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনার পরে এই শহরের মহিলাদের রাতপথের নিরাপত্তায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছিল এই বাহিনী। পুজোর সময়ে এই উইনার্সের কাজে খুশি হয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও।

You might also like
Comments
Loading...