কলকাতা

স্বাস্থ্য কমিশনের কড়া শাস্তির মুখে ডিসান ও ফ্লেমিং হাসপাতাল, দিতে হবে এক লক্ষ টাকা জরিমানা!

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে বরাবর একটা অভিযোগ উঠে আসে যে তারা রোগীদের থেকে মাত্রাতিরিক্ত টাকা দাবি করেন যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দিতে পারেননা রোগীর পরিবার, তখন তাদেরকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে হেনস্থা করা হয়। তবে এইবার স্বাস্থ্য কমিশন কলকাতার দুই নামকরা বেসরকারী হাসপাতাল ডিশান এবং ফ্লেমিংকে এই ব্যাপারে কড়া শাস্তি দিল।

করোনা চিকিৎসায় রোগীর পরিবারকে লাগামছাড়া বিল পাঠানো এবং তাদেরকে হেনস্থা করার অভিযোগে শাস্তির কোপ নেমে এল এই দুই বেসরকারি হাসপাতালের উপর। করোনা চিকিৎসায় লাগামছাড়া বিল পাঠানো নিয়ে যেভাবে স্বাস্থ্য কমিশনে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়েছিল তাতে উদ্বিগ্ন হয়ে তদন্ত শুরু করে স্বাস্থ্য কমিশন এবং তারপরেই এই দুই বেসরকারি হাসপাতালের গাফিলতি বার হয়। জানা গিয়েছে গতকাল রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন দুটি নার্সিংহোমকেই এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা করেছে।

ডিসান হাসপাতালে গত জুলাই মাসে কালীঘাটের বাসিন্দা করুণারঞ্জন চট্টোপাধ্যায় কে ভর্তির সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দু’লক্ষ টাকা অগ্রিম চায়। রোগীর পরিবার এক লক্ষ টাকা জমা দিতে পারে। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু হয়। এরপরেই অভিযোগ ওঠে যে রোগীর পরিবারকে তাঁর মৃতদেহ পর্যন্ত দেখতে দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর পরিবারের হাতে ৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫১৪ টাকা বিল ধরায়। প্যাথোলজি বিল হয় আরও ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। স্বাভাবিকভাবেই রোগীর পরিবার অকূল পাথারে পড়ে তখন।

এরপর তারা স্বাস্থ্য কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত করে স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়ে দেয়, যা বিল হয়েছে তার চার ভাগের এক ভাগ বিল হওয়া উচিত। কমিশন জানায় যে এই রকম অমানবিক হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত।

অন্যদিকে শ্যাম বাজারের বাসিন্দা তনুশ্রী বোস ভর্তি ছিলেন ফ্লেমিং হাসপাতালে। পরিবারের অভিযোগ যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন তাতে রোগীর কোন উন্নতি হচ্ছিল না।তখন তারা রোগীকে বাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে তো ডিসচার্জ করেননি উল্টে তাকে জোর করে ভেন্টিলেশনে দিয়ে দেন। পড়ে রোগীর পরিবারের চাপে পড়ে তাকে ছাড়তে বাধ্য হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং বাড়িতে থেকেই রোগী সুস্থ হয়ে যান। এরপরেও ফ্লেমিং হাসপাতালের তরফ থেকে রোগীর পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকার বিল ধরানো হয়। তারমধ্যে ৮ লক্ষ ৯০ হাজার জমা দেয় রোগীর পরিবার।

স্বাস্থ্য কমিশনের নজরে পড়ে গোটা বিষয়টি এবং তারা ফ্লেমিং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকেও এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে।

Related Articles

Back to top button