সব খবর সবার আগে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ডেলিভারির জন্য ই-পাস চালু করল কলকাতা পুলিশ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

করোনার প্রভাবকে রুখতে দেশজুড়ে লকডাউনের নির্দেশ জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার যার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে ২১ দিন। লকডাউনেকে সফল করতে করা পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য পুলিশ। এই অবস্থায় অনলাইন সংস্থাগুলো বাড়িতে ডেলিভারি দিতে কুন্ঠিত হচ্ছে। তার জন্য সংকটে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে অনলাইন ডেলিভারি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহকে স্বাভাবিক রাখতে ই-পাস চালু করল কলকাতা পুলিশ। এই ই-পাস সঙ্গে রেখে বা তার প্রিন্ট আউট গাড়িতে লাগিয়ে জিনিসপত্র সরবরাহ করার পরামর্শ দিয়েছে লালবাজার।

শনিবার লালবাজারে এই ই-পাসের সূচনা করেন পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা। এর পাশাপাশি বাজারে লোকের জমায়েত কমাতে হোয়াটসঅ্যাপে নিত্যদিনের সামগ্রীর অর্ডার দেওয়ার ব্যবস্থা দক্ষিণ কলকাতার নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। শহরের অন্যান্য থানাগুলিও এই ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, যে ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করবেন, তাঁদের যাতে যাতায়াতের কোনোরকম অসুবিধা না হয়, তার জন্যই এই ই-পাস চালু করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ই-পাসের জন্য অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে করোনাপাস ডট কলকাতাপুলিশ ডট ওআরজি—তে লগ অন করে আবেদন পত্র ভরতে হবে। আবেদন পত্রে গাড়ির চালক ও সহকারীর নাম দিতে হবে । এছাড়া ঠিকানা, মোবাইল, ই মেল, কারণ, গাড়ির মডেল, গাড়ির নম্বর, কোন অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে, সঙ্গে পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথিও ছবি তুলে দিতে হবে। এর পর আবেদনকারীর মেল অথবা ই-মেলে একটি কিউআর কোড পাঠানো হবে। ডাউনলোড করে নিতে হবে সেই ই-পাস। সেই পাস গাড়িতে লাগিয়ে বা সঙ্গে নিতে হবে। পুলিশ পিকেট বা চেকিং পয়েন্টে গাড়ি ধরলে এই পাস দেখাতে হবে। বিশেষ রুট ও সময়ের জন্য এই পাস ব্যবহার করা যাবে। ই পাসের জন্য কোনও অনুসন্ধান বা প্রশ্নের জন্য ৯৪৩২৬১০৪৪৬ বা ৯৮৭৪৯০৩৪৬৫ নম্বরে ফোন করতে পারবেন আবেদনকারীরা।

এদিকে, নিউ আলিপুর থানার ওসি অমিতশংকর মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এলাকাবাসীর কাছে আবেদন করা হয়েছে বাজারে না গিয়ে তারা সরাসরি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘হোয়াটস আপে’-ই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অর্ডার দিতে পারবে। তার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দেওয়া হয়েছে। এবং সেখানেই কার কি লাগবে কতটা লাগবে সেইসব বিষয় জানতে নিজেরাই উদ্যোগী হলেন কলকাতা পুলিশ।

ঠিকানা দিয়ে দিলে সেই সামগ্রী পৌঁছে যাবে বাড়ির দরজায়।তবে এই ক্ষেত্রে তাদের ১০০০ টাকার বেশি সামগ্রী অর্ডার করতে হবে এবং ভ্যান বা রিকশার ভাড়া দিতে হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কয়েক দিনের জন্য জিনিস একটু বেশি করে সংগ্রহ করতে।

পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই নিউ আলিপুর এলাকার বহু বাসিন্দারা এই পরিষেবা গ্রহণ করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা খুবই ফলদায়ক হয়েছে। শহরের বিভিন্ন থানা এলাকায় এই ব্যবস্থা চালু হলে তা প্রবীণ ও অসুস্থদের পক্ষে খুবই ভালো হবে। তার সাথে সাথে পরস্পরের স্পর্শও এড়িয়ে চলা যাবে, জমায়েতও কম হবে। সব থেকে জরুরি হলো কোরোনা প্রতিরোধ হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.