কলকাতা

সতর্কতা মেনে পথে নামছেন শহরবাসী

সোমবার অফিস খুলছে কলকাতায়। সেইমত সোমবার অফিস যাবেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী প্রবাল বসু। বেহালা সরশুনার বাসিন্দা মি. বসু অফিসে যাবেন স্কুটারে চেপে। মাস্ক আর স্যানিটাইজার তো অত্যাবশ্যকীয়, সেইসঙ্গে তাঁর কথায়, ‘সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিংয়ের কথা মাথায় রেখেই স্কুটারে চাপব।’

যাদবপুরের রূপা কর্মকার বেসরকারি ব্যাঙ্কের বালিগঞ্জ শাখায় কাজ করেন। তিনি বাসেই যাতায়াত করেছেন গত কয়েকদিন। সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় তিনি ঠিক করেছেন, ‘বাসে দুটো টিকিট কেটে আমার পাশের সিটটা বুক করে নেব।’ 

কসবার শ্যামল চক্রবর্তী রাজ্য সরকারি কর্মচারী। তাঁর কথায়, ‘আমি গ্লাভস-মাস্ক পরে বাসে উঠছি। সঙ্গে একটা ব্যাগে পাজামা-পাঞ্জাবি নিয়ে যাই। অফিস পৌঁছে হাত-পা ধুয়ে নতুন পোশাক পরে কাজ শুরু করি। এখন এ ভাবেই চলবে।’

রাজারহাটের একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী খিদিরপুরের বিমান ঘোষের কথায়, ‘আগামী বুধবার থেকে আমাকে অফিস যেতে হবে। ঠিক করেছি, দু’সেট করে পোশাক নিয়ে যাব। অফিস পৌঁছে পোশাক বদলে নেব। আবার বদলাব বাড়ি ফিরে। এ ভাবেই চেষ্টা করব নিজেকে যতটা সুরক্ষিত রাখা যায়।’

প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের বেসরকারি স্কুলের ক্লার্ক দীপা মৈত্র বলছেন, ‘দুটো করে মাস্ক ব্যবহার করব। আর যে মাস্ক পরে যাব, স্কুলে গিয়ে সেটা পাল্টে ফেলব। হ্যান্ড স্যানিটাইজার তো ব্যাগেই থাকে।’ 

এমনই সব সতর্কতার সঙ্গে দিন কয়েক হল কর্মস্থলে যাচ্ছেন কলকাতার বহু মানুষ। আজও যাবেন। বেলগাছিয়ার বাসিন্দা সুপর্ণ রায় যেমন কাজ করেন সেক্টর ফাইভের একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায়। এত দিন ঘরে বসে কাজ করলেও আজ তিনি অফিস যাবেন নিজের গাড়ি নিয়েই। সুপর্ণ জানাচ্ছেন, ‘মুখে ডবল মাস্কের পাশাপাশি স্যানিটাইজার নিয়ে যাব। অফিসেও চেষ্টা করব সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার।’

লকডাউনের গোড়া থেকেই মোটরবাইকে অফিসে যাচ্ছেন সৌম্য। তাঁর কথায়,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হলে বাইকে যাওয়া নিরাপদ। তবে বাইকে গেলেও সতর্কতায় কোনও খামতি রাখছেন না তিনি। দু’খানা মাস্ক যেমন পরছেন, তেমনই হাতে থাকছে গ্লাভস। যেদিন কাজের জন্য অফিসের বাইরে যেতে হচ্ছে, সেদিন এক সেট অতিরিক্ত পোশাকও নিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্যেকদিন স্যানিটাইজ করছেন বাইকও।

এভাবেই ধীরে ধীরে করোনার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন শহরবাসী। এই ভাইরাসের ভয়ে বেশিদিন ঘরে বসে থাকা যাবে না তা মানুষ ভালই বুঝতে পারছেন। তাই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পথে নামছেন সাধারণ মানুষ।

Related Articles

Back to top button