সব খবর সবার আগে।

কম আয়ের রেকর্ড এবার মেট্রোয়!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

রবিবার বিকেল পাঁচটা। প্রায় ঘণ্টা খানেক পরে শ্যামবাজার স্টেশনে ঢুকল কবি সুভাষগামী মেট্রো। এত সময়ের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও অবশ্য যাত্রীদের মধ্যে কোনও হেলদোল নজরে পড়ল না। ধীরে-সুস্থে জনা কয়েক যাত্রী চাপলেন মেট্রোয়।  অধিকাংশ আসনই ফাঁকা। অন্য যে কোনও দিনে একই সময়ের ছবির সঙ্গে তুলনা টানলেই বোঝা যাবে যে, রবিবার স্বাভাবিক দিন ছিল না। এ দিন ছিল প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘জনতা কার্ফু’। এর আগে মাঝেমাঝে ধর্মঘটের কারণে মহানগরবাসী ফাঁকা মেট্রো দেখেছেন। কিন্তু আজ, সোমবার থেকে টানা ন’দিন ধরে দিনভর পরিষেবা বন্ধ, মেট্রোর ইতিহাসে প্রথম। প্রতিদিন কয়েক লক্ষ যাত্রী নিয়ে অবিরাম ছুটে চলা মেট্রোর এই দীর্ঘ বিশ্রাম কী ভাবে দেখছেন শহরবাসী?

হাতে গোনা যে ক’জন মেট্রোযাত্রীকে এ দিন দেখা গেল, তাঁরা প্রায় সকলেই কর্মস্থলে যেতে নির্ভর করেন মেট্রোর উপরে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি পরিষেবার অঙ্গ হিসেবে কর্মস্থলে তাঁদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেছে রাজ্য সরকার।  তাই মেট্রো বন্ধ হলে এই যাত্রীরা পড়বেন আতান্তরে। তবুও রেল মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, কাছাকাছি গন্তব্য হলে হেঁটে বা সাইকেলে চলে যাবেন তাঁরা। অনেকে আবার মনে করছেন, কাজের জায়গায় থেকে যাওয়াই ভাল। প্রত্যেকেরই মত, ‘‘দেশ বাঁচলে তবেই তো নিজে বাঁচবেন।’’

এই যেমন, শ্যামবাজারের বাসিন্দা দেবাশিস পাত্রের অফিসে যেতে মেট্রোই ভরসা। আজ, থেকে অফিস বন্ধ। কিন্তু অসুস্থ দিদিকে দেখতে প্রতিদিনই তাঁকে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ে যেতে হয়। তিনটি স্টেশন হেঁটেই চলে যাবেন বলে জানালেন তিনি। অন্যদিকে, কলেজ স্ট্রিটে বইয়ের ব্যবসায়ী দমদমের বাসিন্দা অনামিকা বসুর ভরসা মেট্রো। আপাতত দোকান বন্ধ। তাই রেহাই মিলেছে মেট্রো বন্ধের দুশ্চিন্তা থেকে। খুব প্রয়োজনে মোটরবাইক ব্যবহার করার পক্ষপাতী অনামিকা মেট্রো বা যানবাহন বন্ধ করে ভাইরাস-বিপর্যয় ঠেকানোর সরকারি প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাচ্ছেন।

জনতা কার্ফুতে ঠিক কেমন অবস্থা মেট্রো রেলের? মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, কোনও স্টেশন থেকে ৪০০, কোথাও ২০০, কোথাও আবার তারও কম যাত্রী টোকেন কিনেছেন। সকাল ন’টা থেকে চলেছিল মেট্রো পরিষেবা। রাত আটটা পর্যন্ত ৯,৮৩১ জন যাত্রী মেট্রোয় চড়েছেন। যেখানে গত রবিবার যাত্রী সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় লক্ষ। রবিবার দিনের শেষে মেট্রোর ভাঁড়ারে এসেছে এক লক্ষ টাকা। পাশাপাশি দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু ছিল ইস্ট-ওয়েস্ট পরিষেবা। মোট ১১৪ জন যাত্রী নিয়ে ছোটা এই মেট্রোতে স্মার্ট কার্ড ছাড়া ছ’টি স্টেশন থেকে নগদে রোজগার হয়েছে ৪৮০ টাকা! এই মহামারীর মাঝে ডিউটিতে যোগ দিতে গিয়ে খানিকটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল মেট্রোর কর্মীদের। অবশেষে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে যাত্রীদের পাশাপাশি তাই স্বস্তি ফেলছেন তাঁরাও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More