সব খবর সবার আগে।

“চাইলে দল থেকে বেরিয়ে যান”, কলকাতার নেতাদের প্রতি মন্তব্য তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

সামনে বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এই করোনা অবস্থার মধ্যেও ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিজেপি ও তৃণমূল দুই দলই। বিজেপি যেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় ২০২১ সালের জন্য জোরদার প্রচার চালাতে শুরু করে দিয়েছে বিভিন্ন রকম ভাবে। তৃণমূল থেকে এখনও পর্যন্ত সেরকম লক্ষ্যনীয় কিছু উদ্যোগ দেখা যায়নি এর একটা বড় কারণ হল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এখন রাজ্যে করোনা ও ঘূর্ণিঝড় আমফান পরিস্থিতি সামাল দিতেই চূড়ান্ত ব্যস্ত।

তবে এবার বিজেপির চূড়ান্ত ব্যস্ততা দেখে টনক নড়েছে তৃণমূলের। সম্প্রতি দলের বিভিন্ন নেতাদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সেখানেই তিনি কিছু জনের প্রশংসা করেন আবার কিছুজনকে রীতিমতো ভর্ৎসনাও করেন।

এই বৈঠকেই মমতা সাফ জানিয়েছেন, “কলকাতার নেতাদের বলছি, তাঁরা এদিকে ওদিকে মুখ খুলছেন। তাঁরা চাইলে দল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারেন।” নাম না করে এভাবেই মন্ত্রী সাধন পান্ডেকে বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

কিছুদিন আগে ‘দলবিরোধী’ মন্তব্য করে ইতিমধ্যেই বিতর্কে জড়িয়েছেন মন্ত্রী সাধন পান্ডে। দলনেত্রীর এই মন্তব্য তাঁর জন্য সতর্কবার্তা বলেই মনে করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও নির্দেশ দেন, “রাজ্য কমিটির অনুমোদন ছাড়া জেলা সভাপতিরা কোনও সাংগঠনিক রদবদল করতে পারবেন না। যে কোনও রদবদল করতে হলে তা আগে রাজ্য কমিটিকে জানাতে হবে এবং তাদের অনুমতি নিয়েই সেই বদল করা যাবে। সভাপতি এককভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।”

এদিকে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের হাল ধরতে তিনি অনুরোধ করেছেন ডঃ দীনেশ ত্রিবেদীকে। এদিন বৈঠকে তাঁকে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সভাপতি করা হয়েছ। মমতা বলেন, “দীনেশদা আপনি এখনও ব্যারাকপুরের সাংসদ সদস্য। আপনি ওখানে গিয়ে সাংগঠনিক হাল ধরুন। ওখানে বিজেপি সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটাচ্ছে। রোজ অশান্তি হচ্ছে। আপনাকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।” প্রসঙ্গত, এতদিন ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সভাপতি ছিলেন পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ।

দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে আরও ১০ জন নেতাকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ১১ জনের এই কমিটি এবার থেকে ব্যারাকপুর লোকসভা এলাকার কাজকর্ম দেখাশোনা করবেন। এদিন বৈঠকে বসিরহাটের সাংগঠনিক কাজকর্ম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় তৃণমূল সুপ্রিমোকে। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও বসিরহাট জেলা নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

You might also like
Leave a Comment