কলকাতা

একই পাইপ ব্যবহার করে ব্রেথ অ্যানালাইজারের মাধ্যমে একাধিক চালকের শ্বাস পরীক্ষা, প্রশ্ন উঠল কলকাতা পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে

ইএম বাইপাসে চলছে পুলিশের নাকাবন্দি। একের পর এক গাড়ি দাঁড় করিয়ে ব্রেথ অ্যানালাইজার দিয়ে হচ্ছে চালকদের শ্বাস পরীক্ষা। দুটি গাড়ি ও একটি বাইকের চালকের শ্বাস পরীক্ষা করে পরবর্তী চালককে কর্তব্যরত পুলিশকর্মী বললেন, “পাইপে ঠোঁট লাগিয়ে ফুঁ দিন”। অবাক হয়ে চালক প্রশ্ন করেন, “এটা করা যায়? অন্যের ঠোঁটে ছোঁয়ানো পাইপ ব্যবহার করতে বলছেন”?

এতে পুলিশকর্মীর উত্তর দেন, “অনেক লোক ধরতে হচ্ছে। আর পাইপ নেই। এতেই করতে হবে! এমনিতেই লোকে ফুঁ দিলে আমাদের গায়ে সব ছিটছে। আমরাই বা পাইপ ধরব কেন”? এরপর চালক বলেন, “তা হলে পাইপটা অন্তত স্যানিটাইজ় করে আনুন”। কিন্তু সেই পুলিশকর্মীর কথায়, “এখানে স্যানিটাইজ়ার নেই”।

এমন ঘটনা কলকাতার নানান জায়গাতেই ঘটছে। ব্রেথ অ্যানালাইজারের মাধ্যমে পরীক্ষার নামে শহরের নানান জায়গায় এমনই কাজ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনও জায়গায় বলা হচ্ছে, হাতে গ্লাভস নেই তাই পুলিশকর্মীরা অন্যের ঠোঁটে ছোঁয়ানো পাইপ ধরবেন না। আবার কোথাও বলা হচ্ছে পুলিশকর্মীরা নাকি পাইপ জীবাণুমুক্ত করার সময়ই পাচ্ছেন না।

তাদের মতে, বারবার পাইপ জীবাণুমুক্ত করতে গিয়ে অনেক নেশাগ্রস্ত চালক পালিয়ে যাচ্ছেন। এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন যে ব্রেথ অ্যানালাইজাত ব্যবহারের সময় দূর থেকে পরীক্ষার কোনও চেষ্টা ছিল না। হরিশ মুখার্জী রোডের এক বাইক চালকের শ্বাস পরীক্ষা করে ওই একই পাইপ দিয়ে পরের জনকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশকর্মী বলেন, “এই পাইপেই হবে। এটাতেই চারজনকে ধরব”।

পুলিশের হিসাব বলছে, ৩১ ডিসেম্বর মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য ১৬০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১ জানুয়ারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ৭২ জনের বিরুদ্ধে। কিন্তু আরও কত জন চালকের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে এবং সে ক্ষেত্রে পরিণতি কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন চিকিৎসকেরা।

চিকিৎসক অনির্বাণ দলুই যেমন বললেন, “এ তো মারাত্মক অপরাধ। এখন যাঁরা সংক্রমিত হচ্ছেন, অধিকাংশেরই কোনও উপসর্গ নেই। ব্রেথ অ্যানালাইজ়ার দিয়ে এমন কারও শ্বাস পরীক্ষা করে সেই পাইপই অন্য কারও ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলে কী হতে পারে, ভাবা যায় না”।

প্রায় ২০ মাস বন্ধ থাকার পর ফের নভেম্বর শুরু হয়ে ব্রেথ অ্যানালাইজারের ব্যবহার। ওই সময় এক রিপোর্টে দেখা যায় যে কলকাতায় দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হল মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো। এই পরিস্থিতিতে ব্রেথ অ্যানালাইজারের ব্যবহার ফিরিয়ে এনে পুলিশের তরফে দাবী করা হয় যে এতে এক নতুন ধরণের যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে যাতে কোনও মত্ত গাড়িচালককে পাঁচ সেন্টিমিটার দূর থেকেই চিহ্নিত করা যাবে।

এর পাশাপাশি এও জানানো হয় এই যন্ত্রের গায়ে লাগানো পাইপ একজন চালকের উপর ব্যবহার করে ফেলে দিতে হবে। ব্যবহারের পর যন্ত্রটি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। কিন্তু সেসবের কিছুই মেনে চলা হচ্ছে না। এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্তা বলেন, “এমন হওয়ার কথা নয়। তবু ট্র্যাফিক পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিতে বলব”।

Related Articles

Back to top button