কলকাতা

আমফানের সময় বিপর্যয় এড়াতে চেন দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল টালা ট্যাঙ্ককে, ‘অশনি’র আগেও এই জলাধার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল পুরনিগম

কোনও ঘূর্ণিঝড় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস থাকলে, কলকাতায় সবথেকে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় টালা ট্যাঙ্ক। হাওয়ার গতি কেমন হবে, তা বুঝে এই ট্যাঙ্ক নিয়ে নানান সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পুরনিগমের তরফে। এর আগে আমফানের সময় টালা ট্যাঙ্ককে টালা দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। আর এবারও ‘অশনি’র পূর্বাভাসের জেরে এই জলাধার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুরনিগম।

পুরনিগম সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত থেকে টালা ট্যাঙ্কের চারটি প্রকোষ্ঠে ৮০ শতাংশ জল ভরে রাখা হবে। পুরনিগমের জল সরবরাহের কর্তারা জানিয়েছেন যে ঝড়ের গতিবেগ যদি আরও বেশি হয়, তাহলে ১০০ শতাংশই জল ভরে রাখা হবে। তবে এখনও পর্যন্ত যা পূর্বাভাস, তাতে ৮০ শতাংশ জলই ভরে রাখা হবে বল জানা গিয়েছে।

টালা ট্যাঙ্কের উচ্চতা মাটি থেকে মোট ১১০ ফুট। এতে ২০ ফুট উচ্চতার মোট চারটি প্রকোষ্ঠ রয়েছে। এগুলির এক একটিতে জলধারণ ক্ষমতা প্রায় সাড়ে ২২ লক্ষ গ্যালন। গোটা এই জলাধারের জলধারণ ক্ষমতা প্রায় ৯০ লক্ষ গ্যালন। জলাধার তৈরির সময় ব্রিটিশরা এতে ৫০ মিটার বাই ৫০ মিটার আয়তনের চারটি প্রকোষ্ঠ তৈরি করে, যাতে একটি যদি মেরামত করা হয়, তাহলে যাতে বাকি তিনটি চালু থাকে।

১৯০৭ সালের আগস্ট মাসে টালা ট্যাঙ্ক তৈরির কাজ শুরু হয়। এই কাজ শেষ হয় ১৯০৯ সালের ১৮ই নভেম্বর। ব্রিটিশরা এই জলাধার তৈরি করে সাত হাজার মেট্রিক টন ইস্পাত দিয়ে। বিশ্বের বৃহত্তম জাহাজ টাইটানিক তৈরি করতে যে ইস্পাত ব্যবহার করা হয়েছিল, তা দিয়েই তৈরি হয় এই টালা জলাধার।

প্রায় সাড়ে চার লক্ষ বোল্ট দিয়ে জলাধারের একটি অংশের সঙ্গে অপরটি জোড়া। জল সরবরাহের প্রকোষ্ঠগুলি যাতে মরচে না ধরে, তার জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে মরচে নিরোধক ফুড গ্রেড রঙের প্রলেপ। পরবর্তীতে জলাধারের বাইরের দেওয়ালে ব্যবহার করা হয় অতিবেগুনি রশ্মি নিরোধক রঙের প্রলেপ।

Related Articles

Back to top button