সব খবর সবার আগে।

রাজাবাজার, পার্ক সার্কাসে নিত্যদিনের চেনা চিত্র, ভিড়ে ভর্তি এলাকা, নিষ্ক্রিয় পুলিশ

এ যেন একই কয়েনের উল্টো পিঠ! সারা রাজ্যে খাঁকি উর্দিধারীরা অতিসক্রিয়তায় যেমন নিন্দা কুড়িয়েছেন, সেখানে সাদা উর্দির পুলিশ কলকাতারই কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়। সেই এলাকাগুলির নাম করলেই কিছুটা পরিস্কার হবে চিত্রটা। পার্ক সার্কাস, খিদিরপুর, মেটিয়াব্রুজ, রাজাবাজার ইত্যাদি এলাকায় রোজ যেমন ভিড় লেগে থাকে, সেরকমই ভিড় লেগে আছে। সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে কোনো মিলই নেই এই এলাকাগুলোর। রুটি, পুরীর মতো জলখাবারের দোকানে সকালের চেনা ভিড়, যাবতীয় দোকান খোলা। লোক গিজগিজ করছে রাস্তায়। যেখানে বিশেষজ্ঞরা বারবার সামাজিক দূরত্বের কথা বলছেন, সেখানে এই এলাকাগুলির মানুষের  মনে হচ্ছে এই শব্দদুটো কোনোদিন শোনেনি। সবথেকে বড় প্রসঙ্গ হচ্ছে, সাধারণ মানুষ নাহয় সচেতন নাই হতে পারেন, কিন্তু কলকাতা পুলিশ কী করছে? তাঁরা এই ভিড় সরাতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছেন না কেন? তবে কি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করা হচ্ছে রাজ্যে? এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের মনে।

সকাল থেকেই এই এলাকায় যেসব মানুষ আনাগোনা করছেন, তাঁদের যখনই জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, “বাইরে কী করছেন?” সবার একই উত্তর, “এই তো একটু বেরিয়েছি, এখুনি বাড়ি চলে যাচ্ছি।” “বাড়িতে বসে খুব একঘেয়েমি লাগছে।” ইত্যাদি। “দোকান কেন খোলা?” প্রশ্ন করতেই দোকানির চটজলদি জবাব, “এই এখুনি খুলেছি। এই বন্ধ করে চলে যাব।”

করোনা ভাইরাস ভারতে বর্তমানে হানা দিয়েছে ৬৬৫ জনের উপর, সংখ্যাটা কম হচ্ছে না। ভারত বিপুল জনসংখ্যার দেশ। এইমুহুর্তে করোনা ঠেকানোর একমাত্র উপায় ‘সামাজিক দূরত্ব’। সেখানে এই এলাকার ঘিঞ্জি পরিস্থিতি একই থাকায় নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মুসলিম তোষণ’ নীতির জন্য পুলিশ কোনো কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ করছেন বিরোধীরা।

You might also like
Leave a Comment